ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: ভাষা শহিদদের স্বরণে ‘একুশের কথা ও কবিতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে গান গেয়ে শুনিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী।
গত রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় বাংলা বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি রাধারমণ দত্তের ‘বন্ধু দয়াময়’ বাউল গানটি গেয়ে শুনান। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের মতো দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের শিশুসুলভ আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিমধ্যেই এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নানা ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করছে এবং হাসির পাত্রে পরিণত করছে।
একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে আমরা গঠনমূলক ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করি, যা শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন ঘটায়। এমন কর্মকাণ্ড শুধু তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। আমরা উপ-উপাচার্যের প্রতি আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বজায় থাকে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের ফেসবুক পেইজে তার এই গানটি ব্যাপক সমালোচিত হয়। মন্তব্যের ঘরে শাহজাহান কবির সোহেল বলেন, ‘স্যার সরল মনের গায়ক। কিন্তু যারা অনুপ্রেরণার নামে হাতে তালি দিচ্ছে তারা কিন্তু স্যার কে তেল দিচ্ছে।’ মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘মাহফুজুর রহমানের সাথে টেক্কা দেওয়ার খায়েশ জেগেছে।’ মাহফুজ আনাম বলেন, ‘হিরো আলম গান গাইলেই যত দোষ।’ মাহাদি হাসান শাহজাদা বলেন, ‘আল কুরআনের অধ্যাপক। বলতেও লজ্জা লাগে।’ শাহিদি আফরিন বলেন, ‘মানসিক রোগে ভুগছেন মনে হয়। মানসিক চিকিৎসা দরকার জরুরী ভিত্তিতে।’
এবিষয়ে উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, আমি প্রফেশনাল গায়ক বা শিল্পী না। শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুরোধে, তাদেরকে সংগীত চর্চা এবং কবিতা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে দু লাইন গান গেয়ে শুনিয়েছি। গতানুগতিক বই নিয়ে বসে থাকলেই হবে না বাহ্যিক সাধারণ বিষয়েও জানতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে একজন মানুষকে দূরের না ভেবে কাছের ভাবে, গল্প করতে পারে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষ হুজুর, মৌলভী ও প্রতিক্রিয়াশীল মনে করে। আমরা প্রতিক্রিয়াশীল না, আমরা সংস্কৃতি মনা এবং উদার প্রকৃতির।
তিনি আরও বলেন, মানুষের যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মাননীয় উপাচার্য কবিতা আবৃতি করেছেন সেজন্য আমি গান গাইলাম মজা করে। অসুবিধা নেই আর গান গাইবো না।

Discussion about this post