Print Date & Time : 4 April 2025 Friday 3:29 am

কুষ্টিয়ায় ঈদের দিনে বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

এসএম জামাল,কুষ্টিয়া: ঈদুল ফিতরের দিনে কুষ্টিয়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
এসব বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। রঙবেরঙের পোশাক পরে তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণির মানুষ ছুটে আসেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন স্থানের মানুষের সমাগম হয় এ স্থানগুলোতে। ঈদের ছুটিতে বাইরে থেকে আসা মানুষও দীর্ঘদিন পর এসে আনন্দ উপভোগ করতে আসছেন পরিবার নিয়ে।

সোমবার দুপুর থেকে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে ভিড় বাড়তে থাকে। কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক বাঁধ, রবীন্দ্র-লালন উদ্যান, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীয়া শিশু পার্ক, হাউজিং মাঠসহ বেশ কিছু খেলার মাঠে শিশুমেলাসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছোট বড়, সব বয়সী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মিরপুর উপজেলার মশান এলাকা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীয়া শিশু পার্কে এসেছে জান্নাতুল ফেরদৌস জারা। তিনি পার্কটি ঘুরে ঘুরে বেশকিছু রাইড উপভোগ করেছেন। আনন্দ বিনোদনের মাধ্যমে সন্তানকে নিয়ে তারা বিকেল থেকে ঘুরছে বলে জানান তার বাবা জামাল উদ্দিন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জারা জানায়, বাবাকে অনেক দিন ধরে বলছিলাম। তাই তিনি ঈদের দিনে আমাদের ঘুরতে এনেছেন। এখানে ঘুরে ফিরে বেশ মজা পেয়েছি, আমি খুব খুশি।

জারার মত হাজার হাজার শিশু কিশোর বাবা-মায়ের সঙ্গে এই বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে এসেছে। শুধু ছোটরা নয়, পার্কে আজ এসেছেন দম্পতিসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। তারা এ বিনোদন কেন্দ্রের মুহূর্তটাকে ক্যামেরাবন্দি করতেও ভুলছেন না।

হাউজিং খেলার মাঠের পাশে অস্থায়ী বিনোদন কেন্দ্র বসেছে। পাশাপাশি মেলাও বসেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন সব শ্রেণির মানুষ। অনেকে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে হেঁটে বেড়াচ্ছেন, আবার ছোট ছোট বাচ্চারাও দল বেধে নাগর দোলা, চরকি, নৌকার দোলসহ মেলায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে এসেছেন।

রোজা, নিমু ও তাবিয়া এসেছেন বাবা মায়ের সাথে। তারা বলেন, ঈদের নামাজের পর বাসায় সেমাই খেয়েই তারা গ্রামের বাড়ীতে গেছে। আবার সেখান থেকে ঘুরে এসেই বিকেলের দিকে পার্কে ঘুরতে এসেছেন। অনেক মজা উপভোগ করছেন বলেও জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীয়া শিশু পার্কে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ৩০ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন টাইডে চড়ার সুযোগ আছে। তবে টিকিট কাটতে গিয়ে লম্বা লাইন আাআর টিকিট কেটে রাইডের কাছে গিয়েও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সেখানে পরিবার নিয়ে ঘুরছেন মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, এমনিতেই বাচ্চাদের নিয়ে বের হওয়ার সময় পায়নি। ঈদের দিন বিকেলে ঘুরতে বের হয়েছি।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীয়া শিশু পার্কে ঘুরতে এসে স্ত্রী কণ্যাসহ সবাইকে নিয়ে বেশ কয়েকটি রাইডে উঠলাম। এখানে এসে এসব রাইডে উঠে পরিবারের সবাই খুব আনন্দ করছে। বিশেষ করে আমার তিনটা বাচ্চা খুব উপভোগ করেছে।

এদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান শিশুপার্কে তেমন কোন উন্নয়ন না থাকায় অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে এসে অনেকেই বিমুখ হয়ে ফিরে গেছেন।

আবদুল হক নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, কুষ্টিয়া শহরের মধ্যে বিনোদন কেন্দ্রগুলোর থেকে এই শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু পার্ক একসময় অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ছিল। অনেকেই সময় কাটাতে কখনো বা পরিবার পরিজন আবার শিশুদের সাথে নিয়ে এই পার্কে আসতেন। তবে এখন এখানে।তেমন কিছু না থাকায় দর্শনার্থীরা আসতেই চাইনা। নতুন কোন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগুলো বেশ ভালো হয় বলেও মনে করেন তিনি।