এনামুল হক কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় স্বাক্ষর জালিয়তি করে ভুয়া দলিলে দুই বোনের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের মামলায় সদর সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের সাবেক এবং বর্তমান কর্মস্থল দিনাজপুর সদর সাব রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, ‘সদর সাব রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ গত জানুয়ারি মাসে উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের অন্তবর্তী জামিন নিয়েছিলেন, উচ্চ আদালতের আদেশেই সময় উত্তীর্ণ হওয়ার তিনি আজ
আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনাবেদন করেছিলেন’।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে হাজিরা দেয়ার নির্ধারিত দিন থাকায় কুষ্টিয়া চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তপন রায়ের আদালতে হাজির হয়ে জামিনাবেদন করেন। আদালত শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে আদেশ দেন।
সুব্রত কুমার সিংহ (৪৬) যশোর মনিরামপুর উপজেলার
জয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ সিংহের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ মার্চ এবং ১৯ জুন বিকালে কুষ্টিয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিস ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে জাল/ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি করে আপন দুই বোনের ১০ (দশ) কোটি টাকার মূল্যের ২৮ বিঘা পৈতৃক জমি ও পেট্রলপাম্পের জমি জবর দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করে এই জালিয়াত চক্রের দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী দুই বোন
আদালতের দারস্থ হন।
এঘটনায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বেড় বাড়াদি গ্রামের মৃত:
নিয়ামত আলী শেখের কন্যা বর্তমানের ঢাকার গুলশানে বসবাসরত চাকরীজী বিজমিলা নাহার শেখ ও অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী জুবাইদা নাহার শেখ বাদি হয়ে পৃথক ভাবে আদালতে ৭টি মামলা করেন।
আদালত এসব মামলার তদন্তর ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন বা পিবিআইয়ের উপর ন্যাস্ত করেন। পিবিআই য়ের পুূলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম তদন্ত শেষে
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জড়িত ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে ১১জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মনোহরদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা মেসবাহুর রহমান (৫৫)। সে কুষ্টিয়া সদর
উপজেলার দুর্বচরা গ্রামের মৃত শাহ উজির উদ্দিনের ছেলে। একই উপজেলার লাহিনী
গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে শামসুল ইসলাম (৩০), দুর্বাচারা গ্রামের শাহ
খলিলুর রহমানের ছেলে শাহ ইউসুফ হোসাইন (৩২), লাহিনী গ্রামের আক্তার খাঁর
ছেলে সাদ্দাম খাঁ (৩১), লাহিনী গ্রামের মৃত সামাদ খার ছেলে আক্তার হোসেন
(৬১), একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে তানভির হোসেন (২৩), নড়াইল জেলার
মাধবপাশা গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে এসএম জিয়াউর রহমান (৪১), তার স্ত্রী
সুমনা (৩০), কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ, একই অফিসের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুল,পিয়ন নুরুল ইসলাম খোকন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
সুব্রত কুমার সিংহের পোর্টেট ছবি দেয়া আছে।

Discussion about this post