গাংনী প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গাংনী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান কল্লোলকে ম্যানেজ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রকল্পের মান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
জানা গেছে, পৌর জল সরবরাহ ও স্যানিটারি প্রকল্পের (BMWSSP) আওতায় গাংনী পৌর শহরে প্রায় ৪ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ পেয়েছে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ডাউন অধরা জেভি’। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৫১৯ টাকা। সিডিউল অনুযায়ী কাজের মান নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নিম্নমানের পাথর, রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। সিডিউলে উল্লেখিত গুণমানের সামগ্রী না দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে করে ভবিষ্যতে এই ড্রেন টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান কল্লোলের প্রত্যক্ষ মদদেই অনিয়মের এই কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সজীব হোসেন বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। যদি মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে, সেটা তার দেখার বিষয়।
এদিকে, গাংনী পৌরসভার প্রকৌশলী শামীম রেজা জানান, এই প্রকল্পটি পৌরসভার নয়, এটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত।
অভিযোগ অস্বীকার করে গাংনী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান কল্লোল বলেন, প্রকল্পের কাজ শতভাগ সিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে। কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।
মেহেরপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তা পরিবর্তন করতে বলা হয়। অভিযোগ বারবার প্রমাণিত হলে পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ বলেন, যদি কোনো প্রকৌশলী অর্থের বিনিময়ে ঠিকাদারকে সহযোগিতা করে নিম্নমানের কাজ করিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
এম/দৈনিক দেশতথ্য//

Discussion about this post