নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার মিরপুর এলাকার তালবাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ ঝড়ে একটি পোল্ট্রি খামার সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।
গত ১৮ মার্চ ২০২৬ রাতের ঝড়ো হাওয়ায় “তানিম পোল্ট্রি ফার্ম”-এর প্রায় ২৫০০ স্কয়ার ফিটের বড় মুরগির শেডটি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এতে খামারের ভেতরে থাকা প্রায় ১০০০টি মুরগি চাপা পড়ে মারা যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
খামারের মালিক মোঃ সায়েদ মাহমুদ তানিম জানান, দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা তার এই পোল্ট্রি খামারটি ছিল পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার এই শেড নির্মাণে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল এবং মুরগির পেছনে আরও প্রায় ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।”
জানা গেছে, খামারটি স্থাপনের জন্য তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ হাজার টাকা করে তিন কিস্তিতে মোট ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে হঠাৎ এই দুর্যোগে ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের সময় বাতাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, খামারের বড় শেডটি এক মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে অনেক মুরগি মারা যায় এবং পুরো কাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।
এদিকে ঈদের ছুটি সামনে থাকায় খামারি তানিমের ক্ষতির প্রভাব আরও গভীর হয়েছে। এ সময় সাধারণত পোল্ট্রি ব্যবসায় বিক্রি বাড়ে, কিন্তু ঠিক সেই সময়েই এমন বিপর্যয় তার ব্যবসাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা কামনা করেন, যাতে আবার নতুন করে খামারটি দাঁড় করাতে পারেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীও এই ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে সহযোগিতার জন্য সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।