Print Date & Time : 9 November 2026 Monday 5:49 am

পদ্মার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

হেলাল উদ্দিন,দৌলতপুর(কুষ্টিয়া): পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলৌ প্লাবিত হয়েছে।

এতে উপজেলার দুই ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চিলমারী ২৫ হাজার ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩০ হাজার পানিবন্দী রয়েছে।এতে
অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবারকে নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে।
বন্যার পানি প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুই ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পানিবন্দি মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন, সেজন্য বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার পর উজানের পানি ও বৃষ্টির পানি একসঙ্গে নেমে আসায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিই নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৯২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এসব জমিতে থাকা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমেদ ফারুক আহমেদ বলেন, চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটও ডুবে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ রেখেছেন। তবে বিদ্যালয়ে সরাসরি পাঠদান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাউদ্দৌলা বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পদ্মার পানি বেড়েছে। প্রতিবছরই দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বর্তমানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। ১২ সেপ্টেম্বর নদীর পানি ১৩ মিটার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তদারকি চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে পর্যায়ক্রমে সকল প্রকার সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এল//দৈনিক দেশতথ্য //ঢাকা //