পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ বুড়িমারী স্থল বন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান থেকে ব্যবসায়ীদের সমঝোতা বৈঠক শেষে ২২ দিন পর পুনরায় পাথর আমদানি শুরু করা হয়েছে।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশে পাথরের নির্মাণ কাজ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় বেশি দামে পাথর আমদানি করে ক্ষতির মুখে পড়েন বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা।
লোকসান থেকে বাঁচতে ভারতের তোর্শা ও স্টোন বোল্ডার এবং ভুটানের তোর্শা ও সামসি পাথরের দাম প্রতি মেট্রিক টন ২ থেকে ৩ ডলার কমানোর প্রস্তাব দিয়ে ওই দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনকে কয়েকদফা চিঠি দেয় বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানিকারগন।
এতে উভয় দেশের রপ্তানিকারক ও সরকার কোনো প্রকার ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ায় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ করে দেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।
এতে দুই পক্ষই ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয় উভয় দেশের সরকার।
পরবর্তীতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বুড়িমারী স্থলবন্দরের শূন্যরেখায় ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার ও চ্যাংড়াবান্ধা এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের এবং বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
উভয় দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যবসায়ী প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা আলোচনা করে পাথরের চাহিদা, বাজার ও ব্যবসায়ী পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে যৌক্তিক পর্যায়ে রপ্তানি ও আমদানি করতে সম্মত হন।
এদিন পাথরের দাম পুননির্ধারণ করা না হলেও উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা অভ্যন্তরীণ বাজার মনিটরিং করে দর নির্ধারণে করণীয় ঠিক করতে একমত হন।
এর মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর পাথর আমদানিতে পাথরের যৌক্তিক দর ও বাজার মনিটরিং করতে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন ও বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু রাইয়ান আশয়ারী রছির নের্তৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে গিয়ে পাথর আমদানি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন। ফলে ২২ দিন বন্ধ থাকার পর পাথর আমদানি পুনরায় শুরু করা হয়।
বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা শূন্যরেখায় চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদক এবং প্রতিনিধিদের নিয়ে পাথর আমদানি চালু করি। পাথরের দাম কমানোর ব্যাপারে যে আন্দোলন সেটি সফল হয়েছে বলে মনে করি।’

Discussion about this post