নাজিবুল বাশার , মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মহাঅষ্টমী উপলক্ষে বংশাই নদীর তীরে শনিবার ভোর থেকেই ভক্ত-পূণ্যার্থীদের ঢল নামে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিনে পবিত্র নদীতে স্নান করলে পাপ মোচন হয় এবং আত্মার শুদ্ধি ঘটে, এই আস্থাকে ঘিরেই মানুষ জড়ো হয় মধুপুর পৌরসভার চাড়ালজানি বংশাই নদীর বিভিন্ন ঘাটে ।
মধুপুরের চাড়ালজানি বটতলায় বংশাই নদীতে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও স্নানোৎসব আয়োজন করা হয়েছে। সাথে শিশু কিশোরদের জন্য গ্রামীণ বাংলার মাটির নানা জিনিসপত্রের দোকান বসেছে। ছায়া ঘেরা সুনিবিড় প্রকৃতির বংশাই নদীর নির্মল পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকেরা তাদের স্নানোৎসব করে।
তীর্থ স্নানে ভক্তদের পূজা অর্চনায় অংশ নিতে আশা পুরোহিতগণ জানান, সনাতন ধর্ম মতে, এই দিনে স্নানের মাধ্যমে তাদের পাপ মোচন হয়। সেই সাথে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে জগতের সকল জীবের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করে। সেই বিশ্বাস থেকেই ভক্তরা এখানে আসে এবং স্নান করেন।
চাড়ালজানি দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও স্নানোৎসব আয়োজক কমিটির সদস্য স্নেহময় গুহ নিয়োগী রানা জানান, প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে চাড়াজানির বটতলায় বংশাই নদী অষ্টমী স্নানোৎসব হয়ে আসছে। এখানে স্থানীয় পীরগাছা ভুটিয়া অরণখোলা মহিষমারা কামারচালা চাপাইদসহ স্থানীয় এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকেরা স্নানোৎসব করে থাকে।
স্নান উৎসবে আসা কয়েকজন নারী পুরুষ জানালেন , প্রতিবছরই তারা এখানে স্নান করতে আসি।তাদের বিস্বাসমতে, এখানে যারা স্নান করবে তারা পাপ থেকে মুক্তি লাভ করবে। স্নান শেষে সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করি।
মধুপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুশীল কুমার দাস বলেন, এ স্নান উৎসবে তাদের বিস্বাস মতে পাপ মোচন হয়। জীবনের পাপগুলো মোচনের জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও বংশাই নদীতে হচ্ছে। তিনি জানান, তারা বংশপরম্পরায় এ স্নানোৎসব করে আসছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আসেন এই পুণ্যস্নানে অংশ নিতে। নদীরপাড় জুড়ে চলে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর পূজার্চনার আয়োজন। এছাড়া এখানে বিভিন্ন পণ্য সমগ্রীর স্টল রয়েছে এবং আগত পূণ্যার্থীরা যাওয়ার সময় কেনাকাটা করছে।
এ সময় উৎসবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, মধুপুর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদ সরকার, উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোহেল রানা মাসুম বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে শুরু হওয়া স্নান চলতে থাকে দুপুর পর্যন্ত। এরপর অনেকে ঘাটে বসে পূজা দেন, কেউ আবার প্রসাদ বিতরণ করেন। উৎসবের আমেজে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘিরে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয় বংশাই পাড়ে।
মধুপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ ইমরানুল কবির জানান, মধুপুরে চাড়ালজানিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্নানোৎসব হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ টহল ছিল।
এম/দৈনিক দেশতথ্য//

Discussion about this post