কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: শান্তিপূর্ণ জনপদ খোকসা এখন অশান্ত নগরী। এক রাজনেই অতিষ্ঠ খোকসার মানুষ। অদৃশ্য শক্তি নির্ভর রাজন প্রকাশ্যে একের পর এক অঘটন ঘটিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
গেল সপ্তাহে খোকসা আধুনিক হাসপাতালের মালিকের কছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে খোকসার শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামি পারভেজুল আলম রাজন এবং র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী সান্টুর শ্যালক আশিক বিশ্বাস জনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অপারেশন করতে আসা চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেয় পারভেজুল আলম রাজন। বাধ্য হয়ে থিয়েটারে থাকা মুমূর্ষ রোগীকে অপারেশন না করেই চলে যান সেই চিকিৎসক। রোগীর জীবন বাঁচাতে অন্য এক চিকিৎসককে দিয়ে অপারেশন করে সে যাত্রায় রোগীকে অপারেশন করতে সক্ষম হোন হারুন অর রশিদ।
একটি সূত্রের দাবি, রাত ১১টার পরেই মোটরসাইকেল নিয়ে শোমসপুরের দিকে গেলেই কিছু যুবক কাদিরপুর গ্রামে গতিরোধ করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। আর অটোভ্যান চুরির ঘটনা তো নিয়মিত। খোকসা বাজার থেকেও সংখ্যালঘু এক ব্যবসায়ীর ১৪ লাখ টাকার সার ও কীটনাশক চুরির ঘটনাও ঘটিয়েছে এই রাজনবাহিনী। যে খোকসাতে ডাকাতির কোনো ঘটনাই ঘটতো না এখন যেন খোকসা ডাকাতের নগরী।
খোকসা হাসপাতাল গেটের ঠিক সামনেই সরকারি চাকরিজীবী দম্পতি দিলীপ সেন ও অঞ্জণা রাণীর তিনটি দোকানে প্রকাশ্যে তালা মেরে দখলে নেয়। অঞ্জণা রাণী বলেন, রাজনের দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই আমাদের দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে হাসপাতাল গেট বণিক সমিতির স্বঘোষিত সভাপতি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কায়সার উল আলম সউদ, দিলীপ সেনকে চাঁদা দেয়ার জন্য চাপ দেন। বলেন, রাজনের সাথে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে হবে নয়তো ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা দেয়া লাগবে।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েও মেলেনি প্রতিকার। উল্টো নেমে আসে হুমকির খড়গ। জানা যায়, খোকসা হাসপাতাল গেটে রাজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কায়সার উল আলম সউদ, হাশেম আলম আতিক, খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাব্বির উল আলম জেমসসহ আরো কয়েকজন।
অভিযোগ আছে, খোকসা হাসপাতাল গেটের মনজিল আলীর লাস্যময়ী কন্যা দিলুয়ারা পারভীনের সাথেও আছে রাজনের বিশেষ সখ্যতা। গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজিনাথপুরের সুজনের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় রাজনসহ দিলুয়ারা। এ সময় দিলুয়ারাকে দেখা যায় দলিলসাদৃশ্য কিছু একটা নিয়ে সুজনের নামীয় জমির দাগের খাসজমি নিজের বলে দাবি করতে। আর দিলুর দুই ছেলেও রাজনের অপরাধের নিত্য সহযোগী।
রাজন বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। মূলত এটার পেছনে নিজেকে জানান দেয়াই কারণ। যাতে মানুষ তার দেখে ভয় পায়।
গেল সপ্তাহে প্রকৌশলী দিলীপ সেনের দোকানের পেছনের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ছাড়তে হুমকি দেয় রাজনের বিশেষ সহযোগী হাশেম আলম আতিক। এ ঘটনায় খোকসা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দিলীপ সেনের স্ত্রী অঞ্জণা রাণী। বৃহস্পতিবার দায়ের করা চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি আতিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। আতিক পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মাহফুজুল আলমের ছেলে।
আতিককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজন বৃহস্পতিবার দুপুরে দিলীপ সেনের দুই ছেলেকে অস্ত্র তাক করে হুমকি দেয় মামলা তুলে নিতে। দিলীপ সেনের বড় ছেলে আদিত্য সেন এবার রুয়েট, কুয়েট আর চুয়েটে চান্স পেয়েছে। এমন হুমকিতে মাঝে মাঝেই আতকে উঠছে আদিত্য। যদিও খবর পেয়েই কিছুক্ষণ খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মঈনুল ইসলাম দিলীপ সেনের বাড়িতে এসে তার দুই ছেলেকে উদ্ধার করেন।
এই মামলার অপর দুই আসামিরা হলেন পারভেজুল আলম রাজন এবং আশিক বিশ্বাস জনি।
শুক্রবার গ্রেফতার আসামি হাশেম আলম আতিককে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনার দাবি করেন খোকসা থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম।
তবে এর পরও শোমসপুরের ইন্টারনেট ব্যবসা কেড়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী জিয়া। প্রতিনিয়ত তাকে ফোনে হুমকি দিচ্ছে। আর এই দলে আছে খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রহিম খানের বড় ছেলে রবিন খান। আর রাজনের মেয়ের সঙ্গে নিজের ছোট ছেলে সিয়াম খানকে বিয়ে দেয় রহিম উদ্দিন খান। আর বিয়াই হওয়ার সুবাদে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের দখলদারিত্বের জমি ও সম্পত্তির সুরক্ষা দেয়ার গুরুদায়িত্বও পালন করছে খোকসার শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজন।
এ বিষয়ে জানতে পারভেজুল আলম রাজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এবি//দৈনিক দেশতথ্য //

Discussion about this post