Print Date & Time : 9 November 2026 Monday 4:18 am

মালয়েশিয়ায় মাটি চাপা পড়ে রুহুল আমিনের মৃত্যু

মাহাবুল ইসলাম, গাংনী: পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মো. রুহুল আমিন (৩৮)। বিদেশ যাওয়ার আগে তার নিজস্ব একটি চায়ের দোকান ছিল। আগামী কোরবানির ঈদে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই ফেরা আর হলো না। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। কাজ করার সময় মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

গতকাল শুক্রবার সকালে মালয়েশিয়ার জহুর বারু শহরের পাহাং এলাকায় কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তার মরদেহ জহুর বারু ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে পাহাংয়ের একটি মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত রুহুল আমিন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের পুকুরপাড়া গ্রামের মৃত বয়েন উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, অভাব-অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন রুহুল আমিন। হঠাৎ খবর আসে, কাজ করতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এই সংবাদে যেন পরিবারের ওপর আকাশ ভেঙে পড়ে, সবাই বাকরুদ্ধ। তবে কিছুই করার নেই, মৃত্যু অনিবার্য সত্য। আমাদের সবারই একদিন না একদিন পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে, কখন- কার ডাকে সাড়া দিতে হবে, তা কেউ জানে না। এখন পরিবারের একটাই আকুতি, তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

নিহত রুহুল আমিনের মেজ মেয়ে রুনা লায়লা বলেন, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি আমাদের এতিম করে চলে গেলেন। এখন আমরা কী করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা দুই বোন ও এক ভাই- এখন মা ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আপনারা সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন। এখন বাবার লাশের অপেক্ষা আর দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।
তিনি আরও জানান, তাঁর বাবা আরও দু’জন সহকর্মীসহ ২৫ থেকে ৩০ ফুট নিচে ড্রেনের কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে দুইজন উপরে উঠে এলেও তাঁর বাবা উপরে ওঠার সময় মাত্র দুই ধাপ এগোতেই হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে, এতে তিনি মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহতের বড় ভাই বজলুর রহমান বলেন, তাঁর ছোট ভাই রুহুল আমিন প্রায় তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ সকালে খবর আসে, কাজ করতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে তিনি মারা গেছেন। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১০ বছর। এখন তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কীভাবে জীবনযাপন করবেন, তা ভেবে আমরা দিশেহারা।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তারা যত দ্রুত সম্ভব লাশ দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে দ্রুত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে ঠিক কবে লাশ দেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, নিহত রুহুল আমিনের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে আমার কাছে এলে আমি তা সরবরাহ করব। এছাড়া, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহত রুহুল আমিনের যদি বৈধ কাগজপত্র থাকে, তবে সরকারি যে সমস্ত সুবিধা পাওয়ার কথা, সেই বিষয়ে আমরা তার পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।