কুষ্টিয়া: রমজানের সময়ে ইফতারে পানীয় ফল হিসেবে তরমুজের বিকল্প নেই। দিনশেষে ক্লান্ত হওয়ার পরে ইফতারে তরমুজ প্রশান্তি আনে। তবে বাজারে
রমজানের প্রথম থেকেই বেড়েছিল তরমুজের দাম। তবে রমজানের শুরুতে ৬০ টাকা কেজি হলেও শেষের দিকে এসে কমতে শুরু করেছে তরমুজের দাম। বর্তমানে ৪০-৫০ টাকা কেজি হিসেবে বাজারে তরমুজ।কিনতে পাওয়া যায়।
তবে সিন্ডিকেটের কারনে বাজারে ভোক্তাদের সীমিত লাভেও এসব তরমুজ দিতে অপারগ ব্যবসায়ীরা। এদিকে মিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিনা লাভের বাজার চালু করেছে। সেখানে মাত্র ২৮ টাকা কেজি হিসেবে তরমুজ বিক্রি করছে।
এছাড়াও আলু ১৮ টাকা, পেঁয়াজ ২৮ টাকা, কাঁচামরিচ ২৫ টাকা, রসুন ৭৫ টাকা,আদা ৯০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৯০ টাকা, খেজুর ১৮০ টাকা কেজি এবং কলা ১৬ টাকা হালি হিসেবে বিক্রি করছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এর সামনে প্রতিদিন সকাল ৯ টা হতে বিকেল পর্যন্ত এসব পণ্য কিনতে পারবেন।
স্থানীয়রা জানান, রমজান মাসে বাড়তি সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরমুজের দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এখানে বিনা লাভের বাজার চালুর ফলে অনেকে তরমুজ কিনছেন।
তরমুজ কিনতে আসা মো. আলী হোসেন বলেন, ‘রমজানের প্রথম দিকে তরমুজ ৬০ টাকা কেজি কিনেছিলাম। তরমুজের দাম অনেক বেশি ছিল তখন। আর এসব তরমুজের দাম বাড়িয়েছিল বাজার সিন্ডিকেটরা। আজকে এখানে বিনালাভের দোকান থেকে সেই তরমুজ ২৮ টাকা কেজি হিসেবে প্রায় ৭ কেজির তরমুজ ২০০ টাকায় কিনলাম।
জিহাদ নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে যেখান ৪৫ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে সেখানে বিনা লাভের বাজার থেকে মাত্র ২৮ টাকা কেজিতে তরমুজ কিনলাম। ইফতারের সময় তরমুজ খেতে ভালো লাগে। তরবুজের পাশাপাশি দম কম থাকায় আলু এবং মরিচ কিনলাম এখান থেকে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উপজেলা শাখার সদস্য নিশান ইসলাম ও সুলতান মাহমুদ বলেন, বিনা লাভের বাজার চালু করেছি আমরা। এতে করে জনগণের বেশ সাড়া পাচ্ছি। আমরা নিরলসভাবে এ সেবা দিতে পেরে আমাদের
খুবই ভালো লাগছে৷ তরমুজ ব্যাবসর যে সিন্ডিকেট সেটি ভাঙতে না পারলেও অন্তত জনগনকে স্বল্প মুল্যে তরমুজ খাওয়াতে পারছি। তরমুজ আনতে আনতে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য আবু সাঈদ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা বিনা লাভের বাজার চালু করেছি। এতে করে জনগণের চাহিদা কিছুটা হলেও মেটাতে পারছি। আমাদের এখান প্রচলিত বাজার মূল্যের কম দরে পণ্য বিক্রয় করছি। আমরা লাভ না করে জনগণের কাছে তরমুজ, আলু, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, রসুন,আদা , বেগুন, ঢেঁড়স, খেজুর এবং কলা বিক্রি করছি। বিশেষ করে রমজান মাস উপলক্ষে এগুলোর চাহিদা বেশি থাকায় আপাতত শুরু করেছি। তাতে ব্যাপক সাড়াও পড়েছে।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিনা লাভের বাজার চালু করেছি। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শুরু করা বিনা লাভের বাজার যেখান থেকে প্রচলিত বাজার মূল্যের কম দরে পণ্য বিক্রয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দ্রব্যমূল্য অতিরিক্ত নিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করছি এতে করে বাজার দর স্বাভাবিক রয়েছে, আশা করি এমন স্বাভাবিক থাকবে। তা ছাড়া বাজার দর স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’