মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদাদাতা :
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জনবান্ধব নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমানের একক প্রচেষ্টায় ভাষা শহীদদের স্মরণ রাখতে স্মৃতি স্তম্ভ এবং একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ একযোগে ৩১টি শহীদ মিনার নির্মাণ করে বৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দেড় বছরের ব্যবধানে তিনি এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ও অর্থায়ন এবং উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কারিগরী সহায়তায় শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান ।
৩১ টি শহীদ মিনার নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। কর্মদক্ষতা ও জনবান্ধব এ কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদায়ন হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে ন্যাস্ত হয়েছেন।
এছাড়া পৌরসভার পুরাতন বাস স্টেশনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মান, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে উপজেলা পরিষদ চত্বরে “অর্জন” নামে একটি ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় “মুক্তির পথ” নামে একটি দৃষ্টি নন্দন স্মৃতি সৌধ নির্মিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মো. হাফিজুর রহমান ২০২১ সালের মার্চে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই উপজেলার প্রতিটি সেক্টরে সুষম উন্নয়ন মুলক কাজ হতে থাকে। স্থানীয় এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশিল সমাজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন।
মির্জাপুর পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে মির্জাপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নির্মাণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। খান আহমেদ শুভ এমপির অর্থায়নে নির্মিত এই শহীদ মিনারের সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আরিফুর রহমান। নির্মান ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ টাকা। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দেড় বছরের ব্যবধানে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দুটি স্মৃতি স্কম্ভ এবং ৩১ টি শহীদ মিনার নির্মান কাজ শেষ করে উদ্ধোধন করেছেন। সব মিলিয়ে নির্মান ব্যায় হয়েঠে প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে তিনি জানিয়েছেন। শিক্ষা বিস্তাতরের জন্য উপজেলা পরিষদ চত্তরের সামনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আজ শনিবার (১৫ এপ্রিল) এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আমার মনে হয়েছে এ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা শহীদদের স্মরণে স্মৃতি সৌধ ও শহীদ মিনার নির্মাণ আবশ্যক। আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেয়েছি। আর এসব কারণেই মির্জাপুর আমার চাকুরিজীবনে অন্যতম স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা এড. মোশারফ হোসেন মনি বলেন, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তামো. হাফিজুর রহমান একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা। তিনি মির্জাপুরে যোগদানের পর আমুল পরিবর্তন হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি চেয়ার এবং রেমিট্যান্ট যোদ্ধাদের জন্য অফিসে চেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভা মেয়র সালমা আক্তার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান একজন মহৎ মনের মানুষ। তিনি ন্যায়, নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে জনসেবা করে থাকেন। শহীদ মিনার নির্মানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজ গড়ে তোলেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ করে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্তায়ী কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ এমপি বলেন, একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে এতটা নিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে পারেন, ইউএনও হাফিজুর রহমান তার উদাহারন। তিনি মির্জাপুরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলোতে ৩১ টি শহীদ মিনার নির্মান করে একটি মহৎ কাজ করেছেন।
দৈনিক দেশতথ্য//এসএইচ//

Discussion about this post