মাহাবুল ইসলাম, মেহেরপুর: মেহেরপুরে বেপরোয়া গতির মাইক্রোবাসের চাপায় শিশুসহ দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ সোমবার (৩১ মার্চ) বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা সড়কের ব্রাক অফিস সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের হাসানুজ্জামানের ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান (২৮) ও একই উপজেলার বাড়িবাকা গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে আল ইমরান (২৭) এবং গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে জুবায়ের হোসেন (১১)।
এ ঘটনায় মাইক্রোবাস চালক সহ দুই জন আহত হয়েছে।
মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শামীম রেজা ও নিহত আখতারুজ্জামানের মামা শিলন খান বলেন, গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ ( ঢাকা মেট্রো-ঘ ১১-৮৪৯৭) নাম্বারের একটি মাইক্রোবাস আমঝুপি এলাকা থেকে বেপরোয়া গতিতে মেহেরপুর শহরে আসার পথে প্রথমে একটি ভ্যানগাড়িকে পরে একটি মেহেরপুর-ল ১১-৭৯৯০ নম্বর মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সীমানা পিলারের সাথে ধাক্কা দেয় মাইক্রোবাসটি।
মাইক্রোবাসের চাপায়, মোটরসাইকেল চালক ঢাকার রামপুরা এনআরবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান ও তার বন্ধু আল ইমরান ও ভ্যান গাড়িতে থাকা গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের আলী হোসেন ও তার স্ত্রী শিরিনা খাতুন, ছেলে জোবায়ের হোসেন ও মাইক্রোবাস চালক গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ গুরুতর আহত হয়।
সংবাদ পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে আখতারুজ্জামান ও পরে শিশু জুবায়ের হোসেন ও আল ইমরান কে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত আলী হোসেন ও তার স্ত্রী শিরিনা খাতুন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মাইক্রোবাস চালক সাজ্জাদ হোসেন পলাশহ আহতদের সাথে কথা করতে চাইলে অসুস্থ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, মাইক্রোবাস চালক সাজ্জাদ হোসেন পলাশের মোটরযান লাইসেন্স গাড়িতে ছিল না। এছাড়া গাড়ির ফিটনেস সহ অন্যান্য বিষয়ে ত্রুটিপূর্ণ আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া তিনটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।