গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আট মাস ধরে ৫০ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি/স্বাস্থ্যকর্মী) বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। কবে পাবেন তারও নেই কোনো নিশ্চয়তা। বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এদিকে উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্ব খাতে চাকরি স্থানাস্তরের জটিলতায় বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৫৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে ৫০ জন কর্মরত আছেন। তারা অসহায় গরিবের চিকিৎসা, গর্ভবতী ও প্রসূতি, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, ইপিআই, কিশোর-কিশোরী ও নববিবাহিতদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
উপজেলার বৈরাগীরচালা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. রুকুনুজ্জামান জানান, ‘সাত মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ। ধারদেনা করে পরিবার ও ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হচ্ছে। সমস্যা দুই দপ্তরের। তাহলে আমাদের বেতন-ভাতা দিতে সরকার কেন সমস্যা করছেন?’
কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) অ্যাসোসিয়েশন শ্রীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। হচ্ছে, হবে বলেই দিন পার হচ্ছে। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ আমাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বেতন প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম জানান ‘কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারেশন প্লানের আওতায় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) তাদের বেতন-ভাতা পেয়েছেন। বর্তমান সরকার উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্ব খাতে চাকরি স্থানাস্তরের চেষ্টা করছেন। তাদের বেতন-ভাতা রাজস্ব খাত থেকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করা যায়, এই জটিলতার সমাধান দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে।

Discussion about this post