সরকারি প্রণোদনার আওতায় আসছে যশোরের ৬৭ হাজার কৃষক ।
গত বছর প্রণোদনার আওতায় ছিল ৫০ হাজার ৩২০ জন কৃষক। যা গত বছরের চেয়ে ১৭ হাজার বেশি।
প্রণোদনা হিসেবে কৃষকরা পাচ্ছেন বীজ ও সার। প্রণোদনা কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
কৃষি বিভাগ হতে প্রাপ্ত সূত্রমতে, খরিপ মৌসুমে জেলার ২৩ হাজার কৃষক প্রণোদনা পেয়ে ২৩ হাজার বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া রবি মৌসুমে প্রণোদনার জন্যে ৪৪ হাজার ২৭০ কৃষক তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তালিকাভুক্ত কৃষকরা পাবেন গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখি, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মসুর এবং মুগ বীজ ৷
কৃষি বিভাগ জানায়, প্রণোদনার জন্যে কৃষক বাছাইয়ের কাজ করে উপজেলা কমিটি। সে কমিটির উপদেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যান। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য সচিবের কাজ করেন উপজেলা কৃষি অফিসার।
যশোরের মাঠে এখনো আউশ ধান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। এ বছর দেরিতে বৃষ্টি হওয়া, অতিরিক্ত গরম ও খরার কারণে কৃষক পর্যায়ে চাষে উৎসাহ কম ছিল। গরম, খরা ও পানি অভাবে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কাছাকাছি পৌঁছেছে। চলতি বছর জেলায় আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর । সেখানে চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১হাজার হেক্টরের স্থলে চাষ হয়েছে ৪৫০ হেক্টর এবং উফশী ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টরের স্থলে আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৫২০ হেক্টর ।
তবে আবাদ হওয়া ১৪ হাজার ৯৭০ হেক্টরের মধ্যে প্রণোদনা প্রাপ্ত ২৩ হাজার বিঘা জমি ও ২৩ হাজার কৃষক রয়েছেন। গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে খরিপ মৌসুমে ১৩ হাজার ৫শ কৃষক প্রণোদনা পেয়ে আউশ আবাদ করেছিলেন। প্রণোদনা হিসেবে তারা প্রত্যেকে ৫ কেজি ধান বীজ এবং ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পেয়েছিলেন। এদিকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের জন্যে যশোরে সরকার কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আগত রবি মৌসুমে ৪৪ হাজার ২৭০ জন কৃষক প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৮২০।
অনুদান প্রাপ্ত যশোর সদরের লেবুতলা গ্রামের মনিরুজ্জামান, ফতেপুরের তরিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম, মণিরামপুরের মফিজুর রহমানসহ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, সরকার প্রণোদনা দেওয়ায় সার, বীজের খরচ লাগছে না। এটা আমাদের জন্যে দারুণ খবর।
কৃষি প্রণোদনা এবং যশোরের চাষাবাদ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হক জানান, যশোর এমনিতেই কৃষি উদ্বৃত্তের জেলা। এখানে অনেক জমিতে ৩ ফসল চাষ হয়। চাহিদার চেয়ে বেশি ধান, সবজি উৎপাদিত হয়। দেশের সবজি চাহিদার বিরাট অংশ এখান থেকে সরবরাহ হয়ে থাকে।
দৈনিক দেশতথ্য//এইচ//

Discussion about this post