Print Date & Time : 22 April 2025 Tuesday 12:51 pm

সিলেটে বন্যার শংকা

বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মিইয়ে যাওয়ার আগেই সিলেটে ফের বন্যার শংকা দেখা দিয়েছে। গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি আরো ১৫ দিন অবহ্যাত থাকবে বল্ব জানা গেছে।এছাড়া ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। ফলে নামছে ঢল। ঢল আর বৃষ্টিতে সিলেটের নদনদীর পানি বেড়ে চলছে। বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে পানি। ঢল আর বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহেই মাঝারি ধরনের বন্যা হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।ঢলে ইতোমধ্যে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বিভিন্ন হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৩৯ মিলিমিটার। সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, সিলেটে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেটে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, সিলেটের নদ-নদীর পানি গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ওপরে ওঠেনি। তবে দিনে দিনে পানি বাড়ছে। আজ সকাল ৯টায় সিলেটের সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৩৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার ওই পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার সেখানে ৮ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সেখানে আজ সকাল ৯টায় ৯ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার। সেখানে আজ সকলে ১০ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। বৃহস্পতিবার নদীর ওই পয়েন্টে ৮ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫। সেখানে শনিবার (১৭ জুনঘ) সকাল ৯টায় ৬ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। বৃহস্পতিবার সেখানে ৪ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তবে পিয়াইন নদের জাফলং পয়েন্টে পানি গতকালের তুলনায় কমেছে। গতকাল সকাল ৯টায় ১০ দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ সকালে তা কমে ১০ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ ছাড়া সারি নদের সারিঘাট পয়েন্টেও গতকালের তুলনায় আজ পানি প্রবাহের পরিমাণ কমেছে। গতকাল সকালে সারিঘাট পয়েন্টে ১১ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ সকালে সেখানে ১১ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, সিলেটে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে এখনো কোনো বাঁধ ভাঙেনি।

এরআগে গতবছর সিলেটে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়। এতে তলিয়ে গিয়েছিলা সিলেটের ৭০ শতাংশ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্থ হন জেলার প্রায় সব মানুষ। বন্যায় ভেঙে যায় প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি। গতবারের বন্যার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্থরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ১৩৫.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৭৫ মিলিমিটার। এর আগে বুধবার সকাল ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২৭১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

সিলেটের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা সিলেটে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে।

বর্ষণ ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা থেকে বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসন জরুরি সভা করে আগাম বন্যার প্রাথমিক প্রস্তুতিও নিয়েছে। ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান।

এবি//দৈনিক দেশতথ্য//জুন ১৭,২০২৩//