সিলেট অফিস: সিলেটে আসন্ন্ সনাতন ধর্মালম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব মহালয়ার এবং চন্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবছর সিলেটে জেলায় ৪৪১টি এবং মহানগরে ১৫৪টি মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপদ ও নির্ভয়ে পূজা উদযাপন করার লক্ষ্যে সিলেট জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের নিরাপত্তা সেবা থাকবে।
ইতিমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন
সিলেট মহানগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের ৭৭টি পূজা মণ্ডপকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ২৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে
গতকাল মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৪ উদযাপন উপলক্ষ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও সিলেট মহানগরীর পূজা উদযাপন কমিটিসমূহের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় এই অনুদানের চেক তুলে দেয়া হয়।
পুলিশ এবং পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট মহানগরের ১২৩টি মণ্ডপে এবং জেলার ৪৫৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এসব মণ্ডপ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে পুলিশ। পূজা চলাকালীন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আনসার এবং মণ্ডপের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
নগরীর বল্লব নারায়ণ মৃৎশিল্পালয়ের প্রতিমা কারিগর নন্দলাল বলেন, এবার প্রতিমা তৈরির সংখ্যা একটু কম। দেশের চলমান পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এরজন্য হয়তো অন্য বছরের তুলনায় উৎসবের আমেজ একটু কম। সময় ঘনিয়ে আসার উৎসবের আমেজ বাড়বে।
সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ বলেন, এ বছর পুলিশি নিরাপত্তা একটু আগে ভাগেই শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের কাছে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কার কোনো তথ্য নেই। আমরা আশা করছি, প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা আমরা সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারবো।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম বলেন, সিলেট হচ্ছে সম্প্রীতির নগরী। এ নগরীর শান্তিশৃঙ্খলা এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। পূজা চলাকালীন মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবীদের আইডিকার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালনার জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিলেটে নবাগত ডিআইজি মুশফিকুর রহমান বলেন, মহাসমারোহে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় উৎসব পালনে সবধরনের সহযোগিতা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের সংঘাত বা নেতিবাচক কোনো কিছু সহ্য করা হবে না।
ধর্মীয় পঞ্জিকা মতে, আগামী ২ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের সূচনা হবে। ১২ অক্টোবর মহাদশমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সন্ধ্যায় বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এবার পৃথিবীতে দশভুজার আগমন হবে দোলায় চড়ে। তিনি কৈলাশে ফিরবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে।
হা/02/1024 dtbangla