কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রমের প্রায় শেষ দিকে এসে টিকা নেয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত টার্গেটের অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেছে। তবে সরকার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসায় এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোববার ( ৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একদিনেই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ২৫২ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে। টিকা দিতে এক সঙ্গে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি ছিল পুরোপুরি উপেক্ষিত।
জানা যায়, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষা দিতে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো দৌলতপুর উপজেলায়ও গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় টিকাদান কার্যক্রম। চলমান এই টিকা কার্যক্রমকে ঘিরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে রোববার অনেকাংশে বেড়ে যায় শিক্ষার্থীদের ভিড়। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত বয়সের সকল শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু উপজেলার টিকা প্রাপ্তির তালিকায় থাকা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে রোববার পর্যন্ত এর অর্ধেকও শেষ হয়নি। এ দিন ৪ হাজার ২৫২ জন শিক্ষার্থীকে তোড়জোড় করে টিকা দেয়া হয়। যদিও একদিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাত্র একটি বুথে এত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার ঘটনা অনেককেই অবাক করে দিয়েছে।
এদিকে টিকাদান কেন্দ্রে ছিল না কোনো স্বাস্থবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। অনেককে মাস্ক ছাড়াই দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সজুড়ে চরম বিশৃৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও কেন্দ্রটিতে ভিড় করেন। এতে সেখানকার পরিবেশ আরো বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। একদিনেই এত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার ঘটনায় তাদের উপস্থিতির কারণে দৌলতপুর থানা বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন এলাকার সাধারণ রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাভাবিক চিকিৎসাও ব্যাহত হয়।
একদিনে এত শিক্ষার্থীর টিকা নিতে আশার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরদার মোহাম্মদ আবু সালেক জানান, সারাদেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এই টিকাদান কার্যক্রম শেষ করতে হবে। এর ফলে প্রায় শেষ দিকে এসে শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ হলেও আমাদের কিছু করার থাকছে না।
শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সালেক জানান, সোমবার থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো দুটি টিকার বুথ বাড়ানো হবে। এতে একেক দিনে অন্তত ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে অাশা করা হচ্ছে। ফলে হাতে থাকা বাকি চারদিনের মধ্যেই এখানকার টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে অাশা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, জন্ম নিবন্ধন কার্ড অনুসারে শিক্ষার্থীদের এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে থাকা সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের আগেই তাদের নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এত শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ফাইজারের যে টিকা দেয়া হচ্ছে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রার ভেতরে প্রয়োগের সুযোগ সেই। এর জন্য দরকার এসি ঘর বা এসি গাড়ি। সেই মোতাবেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর একটি বুথে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর টিকা দেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে এই টিকাদান কার্যক্রমে আরো দুটি বুথ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৪৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে রোববার পর্যন্ত ২২ হাজার ২৪২ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। যা তালিকা অনুসারে অর্ধেকেরও কম। তবে বুথ বাড়ানোয় নির্ধারিত ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই ৪৮ হাজার শিক্ষার্থীকেই টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে। যদিও তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো খুব দূরহ ব্যাপার।

Print Date & Time : 11 May 2025 Sunday 1:53 am