খাওয়ার লোভ কাটানোর পড়েও দেখা যায় চর্বি আছে বহাল তবিয়তেই। আসলে পেট ও কোমরের চর্বিকে বলা হয় জেদি ফ্যাট। আর এটি যে শুধু উচ্চচর্বিযুক্ত খাবার খেলেই বাড়ায় তা নয়, বেশি ক্যালরিযুক্ত যেকোনো খাবারও পেটের মেদ বাড়াতে পারে।
অনেকেই মনে করে থাকেন যে অল্প খেলে আর প্রচুর শরীরচর্চা করলেই বুঝি মেদ কমে যায়, যেটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সাম্প্রতিক সময়ে এ ক্ষেত্রে আলোচনায় উঠে এসেছে কম সময় আর কম পরিশ্রমে এই অসাধ্য সাধন করার ২টি অভিনব জাপানি ব্যায়াম।
প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের জন্য এই ব্যায়াম করলে মাত্র ১০ দিনেই কোমরের মেদের বহরে দেখতে পাবেন আশ্চর্য পরিবর্তন। শুধু তা–ই নয়, দেহের মাঝের অংশের এই মেদ কমানোর পাশাপাশি যাঁদের পিঠ বাঁকা, যাঁরা কুঁজো হয়ে হাঁটেন, তাঁদের পিঠ সোজা হবে এটি করলে। এ ছাড়া পিঠের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রেও কাজ করে এই ব্যায়াম।
কীভাবে করবেন ব্যায়াম দুটি
পদ্ধতি ১
একটি তোয়ালে গোল করে মুড়িয়ে নিন, যার পুরুত্ব হবে ৪ ইঞ্চির মতো। এবার শুয়ে এটি কোমরের নিচে রাখুন। চেষ্টা করবেন নাভির ঠিক তলায় রাখতে। এবার পা দুটি কাঁধের দূরত্বের সমান করে রাখুন।
লক্ষ রাখুন, পায়ের আঙুলগুলো যেন একে অপরকে ছুঁয়ে থাকে। এবার মাথার ওপরে হাত দুটি নিয়ে যান। হাতের তালু থাকবে নিচের দিকে। এ অবস্থায় কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে মেঝেকে স্পর্শ করুন। ৫ মিনিটের মতো এই ভঙ্গিতে শুয়ে থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে শরীর শিথিল করুন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে কোমরের নিচের তোয়ালে সরিয়ে ফেলুন। রোজ এই পদ্ধতিতে টানা ১০ দিন ব্যায়াম করলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
পদ্ধতি ২
এ ছাড়া রয়েছে আরেকটি চমকপদ পদ্ধতি, যেখানে পেটে ম্যাসাজ করে কমাতে পারেন চর্বি।
১. মেঝে বা বিছানায় শুয়ে পড়ুন
২. দুটি হাতের পাতা একসঙ্গে সঙ্গে ঘষতে থাকুন, যতক্ষণ না হাতের পাতা দুটি গরম হয়ে ওঠে।
৩. পেটের ওপরের কাপড় সরিয়ে দিন।
৪. একটি হাতের পাতা রাখুন নাভির ওপর। খেয়াল রাখবেন, হাতের আঙুল যেন ভাঁজ না হয়ে যায়।
৫. নাভিকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকারে হাতটি পেটের ওপর বোলাতে থাকুন। প্রথমে ছোট বৃত্তের আকারে তারপর ধীরে ধীরে বৃত্তের পরিধি বড় করতে থাকুন। এভাবে একবার ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং আরেকবার ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরাতে থাকুন। হাত বোলানোর সময় পেটের ওপর হাতের সাহায্যে মৃদু চাপ বজায় রাখবেন।
৬. মিনিট দুয়েকের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ বার এভাবে পেটের ওপর হাত বোলান। দেখবেন, পেট ও তলপেটের অংশে এর ফলে মৃদু গরম অনুভব করছেন।
৭. এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দুই মিনিটের মতো সময় পেট খোলা অবস্থায়ই রাখুন এবং শুয়ে থাকুন। তারপর উঠে পড়ুন।
জাপানি পদ্ধতিতে এই দুটি ব্যায়াম অনুসরণ করে কোমরের মাপ কমেছে, এমন মতামত দিয়েছেন বহু জাপানি। তবে এই ব্যায়ামের পাশাপাশি সুস্থ থাকতে অবশ্যই তাঁদের মতো জীবনযাপন অর্থাৎ পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও ঘুম হচ্ছে পূর্বশর্ত।
এম/দৈনিক দেশতথ্য//

Discussion about this post