গোফরান পলাশ, কলাপাড়া: (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ঈদের ছুটিতে সবাই যখন প্রিয় জনের সাথে সময় কাটাতে বাড়ী ফিরছেন ঠিক তখন প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দখল করে চলছে মার্কেট নির্মানের কাজ। শুধু দখল নয় টিন আর কাঠের মাচার উপরে ইট সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে করা হচ্ছে দ্বিতীয় তলায় আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, যা পর্যটকদের জন্য খু্বই ঝুঁকিপূর্ন।
একসময়ে টাইলস্ মার্কেট নামে পরিচিত মার্কেটটিতে নিচতলায় প্রায় ৪০-৫০টি দোকান থাকায় সারাবছরে পর্যটকদের অবস্থান থাকে ওখানে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে অনেক আগেই সাইনবোর্ড দিয়ে ঝুঁকিপূর্ন ঘোষনা করে কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এবার সৈকত দখল করে মার্কেটটিকে বর্ধিত করছে মার্কেটটির মালিক দাবি করা মো. হিরু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তবে সৈকতের মালিকানা সরকারের এখানে মার্কেট করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানায় প্রশাসন।
জানা যায়, কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিমপার্শ্বের প্রায় দুইশো ফুট লম্বা টাইলস মার্কেটের পশ্চিমপাশে পুরোপুরি সৈকতের ভিতরে, জোয়ারের পানি সার্বক্ষনিক এই মার্কেটে এসে আচড়ে পড়ে। বর্তমানে সেটিকে আরো লম্বা করে প্রায় আনুমানিক ২০-৩০ ফুট বর্ধিত করে পুরোপুরি সৈকতের ভিতরে সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে দোতলা মার্কেট নির্মান করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মার্কেটটি লোহার পাত আর কাঠ দিয়ে তৈরি করা হলেও তার উপরে আবার ঢালাই দিয়ে দোতলা নির্মান করে উপরে আবাসিক হোটেল নির্মান করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন যাবৎ ওই স্থাপনার নিচে ব্যবসা করা অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
মার্কেটের এক দোকানি জানান, বর্ষায় ঢেউ এসে আচড়ে পড়ে এই মার্কেটের এক পাশে। এতে ঝূঁকিতে থাকে আমাদের অনেক ব্যবসায়ী। এতদিন যেভাবে ছিল এতে ভয় কম ছিল, কিন্তু এখন মার্কেটটি আরো বড় করা হচ্ছে উপরে ঢালাই দেয় হচ্ছে, তাতে যেকোনো সময়ে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের সভাপতি কে.এম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটাতে স্থায়ী কোনো মার্কেট না থাকায় এই মার্কেটটি কিছুটা হলেও পর্যটকদের প্রসাধনী কেনায় গুরুত্বপূর্ন স্থান হিসাবে বিবেচিত। তবে মার্কেটিট ঝূঁকিপূর্ন তাই পৌরসভা এটিকে ঝূঁকিপূর্ন ঘোষনা করে সাইনবোর্ড দিয়েছে।
এ বিষয়ে ওই জমির মালিক দাবি করা মো. হিরু মিয়া বলেন, এই জমির মালিক আমি, আমার জমির অনেকাংশ সমুদ্রের মধ্যে রয়েছে। এটা নিয়ে প্রশাসনের সাথে বার বার বৈঠক হয়েছে, আবারও হবে। আর এই স্থাপনা ঝূঁকিপূর্ন নয়, প্রকৌশলীর পরামর্শ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমুদ্র সৈকতের মালিক একমাত্র সরকার, এখানে ব্যক্তি মালিকানার কোনো সুযোগ নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা এবিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Discussion about this post