স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
বিস্তারিত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু দল জনগণের কল্যাণে প্রণীত বাজেটকে গণবিরোধী বলে আখ্যায়িত করছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চাল, ডাল, তেল, নুন ও চিনিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাজেটের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জনগণের কল্যাণে প্রণীত এমন একটি বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হতে পারে কি না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড এবং আরও ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, চা–শ্রমিক পরিবারের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চা–বাগানের শ্রমিকদের ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
চা–শ্রমিকদের উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর চা–বাগানের নারী শ্রমিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় সরকার আমদানিকৃত সমজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় শিল্প ও কারখানা সচল থাকলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে।
বিদেশে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে। অর্থ পাচার রোধ করা গেলে উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য অর্থের কোনো ঘাটতি থাকবে না।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১০ জন উপকারভোগীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সদস্যদের আর্থিক সহায়তা এবং চা–শ্রমিকদের আবাসন নির্মাণের জন্য অনুদান বিতরণ করা হয়।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post