চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার নগরীর জিইসি মোড় এলাকার বনজৌর রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্ট্রেনদেনিং রোড সেফটি অ্যাক্ট অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ (পিআইজি) এই কর্মশালার আয়োজন করে।
বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেবল আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি চালক, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারী—সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে নগর ও মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।
সংসদ সদস্য বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে দ্রুত উদ্ধার, হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বিভিন্ন দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশেও সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়কে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আবু সুফিয়ান বলেন, দায়িত্বশীল নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব। তিনি হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে দুর্ঘটনা কিছুটা কমতে পারে বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য। তবে তিনি বলেন, শুধু সড়ক সম্প্রসারণ নয়, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনা সমানভাবে জরুরি।
কর্মশালায় সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা এবং সড়ক নিরাপত্তায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করছে পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ (পিআইজি)।
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সহায়ক হিসেবে ছিলেন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী চন্দর কুমার লাহড়ী। পিআইজি সদস্য সচিব ও দৈনিক পূর্বদেশের বার্তা প্রধান আবু মোশারফ রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, ভোক্তা অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আর//দৈনিক দেশতথ্য// ঢাকা।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post