কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেছে স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে একর্মসূচী পালিত হয়।
এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল চত্বরে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন ও প্লাকার্ড শোভা পায়। শিক্ষার্থীদের দাবি স্কুল
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যবধি স্কুল চত্বরে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পালিত হয়নি।
কিন্তু সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচী পালনের স্থান
ও দিনক্ষণ চুড়ান্ত করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমন ঘটনা দু:খজনক দাবী
করে স্কুল মাঠে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ দাবী করেন। এসময়
উপস্থিত বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্কুল মাঠে তাদের দাবি আদায়ের স্বপক্ষে
গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
বিদ্যালয়ের ৮২-৮৩ বর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী সাহাজুল আলম বর্তমানের অভিভাবক
বলেন, ‘অদ্যবধি এই স্কুলের মাঠে কোনদিন কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচীর
ভেন্যু করতে দেখিনি। স্কুল প্রাঙ্গনে নানাবিধ সামাজিক সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও এখানে রাজনীতি মুক্ত রাখার বিষয়ে জেলার অপরাপর
রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এখানে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে
আসেননি বা এজাতিয় কর্মসূচী পালনের জন্য কখনও অনুরোধ বা চাপ সৃষ্টি
করেননি। অথচ এখন শুনছি উনারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই এতোবড়
একটা কর্মসূচী পালনে স্কুলের মাঠ ব্যবহারের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এটা মোটেও
ভালো হয়নি। এযাবতকাল যা হয়নি এখনও তা হতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আরও
কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা হবে স্কুল মাঠটি রাজনীতি মুক্ত রাখতে’।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন,
‘শিক্ষার্থীরা যে দাবিতে মানব বন্ধন করছেন ওই দাবির সাথে আমার কোন দ্বিমত
নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষও এপর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ কর্মসূচীতে পালনে
স্কুল মাঠ ব্যবহারের কোন অনুমতি দেননি’। উনারা চাইলে উনাদের কর্মসূচী
আরও কোন উপযুক্ত স্থানে করতে পারেন’।
তবে এবিষয়ে স্কুল মাঠ ব্যবহারের আবেদনকারী কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর
সাধারণ সম্পাদক ১১দলীয় জোটের জেলা সমন্বয়ক এনামুল হকের মন্তব্য জানতে
মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি বা কল রিসিভের
অনুরোধ করে খুদে বার্তা প্রেরণ করেও কোন সাড়া দেননি’।
জেলা স্কুলের সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান স্কুল
মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক
এনামুল হক আবেদন করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা সম্মতি ছাড়াই মাঠ
ব্যবহারের প্রচারণা চালিয়ে থাকলে সেটা দু:খজনক।
এল//দৈনিক দেশতথ্য //ঢাকা //
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post