সিলেট অফিস:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে গৃহপালিত ছাগল ও ভেড়ার সু-খ্যাতি ও বিক্রয় চাহিদা রয়েছে সমগ্র সিলেট অঞ্চলে।।এই উপজেলায় প্রত্যন্ত গ্রামে ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাধ্যমের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য অনেকে ছাগল ভেড়া পালন করে থাকেন।আর এইসব ছাগল ও ভেড়া বিক্রির সবচেয়ে সুনাম ও জনবহুল বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে কয়েক যুগ থেকে ব্যাপক পরিচিতি পেয়ে আসছে জৈন্তাপুর উপজেলা সাপ্তাহিক হাঁট।
সাধারণত রবি ও বুধবার দুইদিন হাঁটবার থাকলেও বুধবারদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষক ও ক্ষুদ্র খামারীরা তাদের গৃহপালিত ছাগল ও ভেড়া বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন এই হাঁটে।
জৈন্তাপুর সাপ্তাহিক হাঁটে মাছ, সবজী,কাঁচামাল, নিত্যপ্রয়োনীয় সব উপকরণ এইদিন হাঁটে তুলা হলেও সকাল থেকে ভীড় জমে ছাগল ও ভেড়া বিক্রিতে।
মূলত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্হান হতে ব্যাপারী কিংবা বিয়ে, শিরনী,আকিকার মত সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ক্রেতারা জৈন্তাপুর উপজেলা হাঁটের বিক্রিত খাঁশি,বকরী,ভেড়া তাদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখেন। সেইসাথে এ অঞ্চলের ছাগল ও ভেড়ার ক্রেতা চাহিদা প্রায় কয়েকযুগ ধরে।
জৈন্তাপুর হাঁট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের অন্যতম ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, সাপ্তাহিক হাঁট বারে গরু, ছাগল, সবজী,মাছ সহ সকল প্রকারের উপকরণ তুলা হলেও সকাল ৯টা থেকে ছাগল ভেড়ার হাঁট জমে উঠে এবং দূপুর ২টা নাগাত তা শেষ হয়ে যায়। তিনি জানান এই হাঁটে ছাগল ও ভেড়ার মূল ক্রেতার সিংহভাগই জৈন্তাপুরের বাহির থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসেন।
শীতমৌসুমে এই হাঁটে প্রতি বুধবার প্রায় সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশো ছাগল ভেড়া বিক্রি হয়। গরম ও বর্ষা মৌসুমে তা কিছুটা কমে আসে।
জৈন্তাপুর হাঁটে ছাগল কিনতে আসা গোয়াইনঘাট উপজেলার আলিরগাও ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুন নূর জানান, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে এ হাঁট থেকে ছাগল ও ভেড়া কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকেন৷ তুলনামূলক সাশ্রয়ীমূল্য ও সুস্হ সবল দেশীয় খাবার খেয়ে বড় হওয়ায় জৈন্তাপুর উপজেলার ছাগল ভেড়ার কদর বেশী।
হাঁটে ছাগল কিনতে আসা আরেক ব্যাপারী গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের বাসিন্দা জানান ১৮ বছর ধরে তিনি জৈন্তাপুর হাঁট থেকে ছাগল ভেড়া কিনে সিলেট নগরীর লাল বাজার, কাজিরবাজার, লালাবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার সহ বড় বড় কমিউনিটি ও কনভেনশন সেন্টারে ছাগল সরবরাহ করে আসছেন। তিনি জৈন্তাপুর বাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো হলেও বাজারের আয়তন ও যানজটের সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্ট কামনা করেছেন।
এ দিকে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রানী সম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের লাইভস্টক কর্মকতা ডাঃ আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, আবহাওয়া ও প্রকৃতিগত দিক থেকে জৈন্তাপুরের প্রান্তিক জনপদ ছাগল ও ভেড়া পালনের জন্য উপযোগী। তিনি জানান উপজেলা প্রানী সম্পদ হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষক ও খামারী পর্যায়ে প্রদর্শনী খামার ও বেশ কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা খামারিদের এলডিডিপির আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়াও উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও হাওড় প্রকল্পের আওতায় খামারীদের উদ্বুদ্ধকরণ সভা,মাঠ দিবস ও উঠান বৈঠক সহ ফ্রীতে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনিং করা হয়ে থাকে৷ এ ছাড়াও ছাগল ও ভেড়া পালনকারীদের সুবিধার্থে বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র খামারীদের সরকারি অর্থায়নে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।
এবি//দৈনিক দেশতথ্য//জানুয়ারী১৮,২০২৪//

Discussion about this post