সিলেট অফিস: পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমায় প্রতিদিনই সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কমছে নদনদীর পানি। তবে পানি নামার গতি ধীর হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছে পানিবন্দি মানুষেরা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিলেটের ১৩টি উপজেলায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি। এরমধ্যে ২১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় নয় হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এই মুহুর্তে কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে ৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।
প্রসঙ্গত, সিলেটে তৃতীয় দফা বন্যার পানি কমতে থাকলেও গত বুধবার রাত থেকে ৪র্থ দফা নদ নদীর পানি বাড়তে থাকে। সেই পানি ধীর গতিতে নামতে শুরু করেছে। ৩ ঘণ্টা পর পর ১ সেন্টিমিটার করে পানি কমছে। সুরমা কুশিয়ারার তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের এখনো ৯ হাজার বানভাসি বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের বন্যা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় জেলার ১৩টি উপেজেলার ৯৪টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৩টি গ্রাম প্লাবিত রয়েছে। এতে পনিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৮ জন মানুষ। এসব এলাকায় ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ হাজার ২১ জন মানুষ অবস্থান করছে। এরমধ্যে বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। মাসখানেক ধরে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির পর প্রণোদনা সুবিধা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে আমন চাষের জন্য ভাসমান বীজতলা তৈরিসহ ক্ষতি কাটাতে নানা পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
খালিদ সাইফুল, দৈনিক দেশতথ্য, ১৩ জুলাই ২০২৪
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post