এনামুল হক কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালের প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব, কোষাধক্ষ্য পদগুলোতে নির্বাচনের বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে পদগুলোতে পরিবর্তন না আসাসহ দুদক কর্তৃক মামলার আসামিকে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অবৈধ সভার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ প্রদান করা হয়।
এছাড়া বাংলা ও এমবিএ এর মাস্টার্স প্রোগ্রামে এক বছরের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ভর্তি করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ করেছে বোর্ড অব ট্রাস্ট এর একাংশ।
১৪ সদস্যের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের ৭সদস্যের অভিযোগ হত্যা মামলার আসামী সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মদদ পুষ্ট ভাইস চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম দুর্নীতি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ( বিওটি) সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা অভিযোগ করেন, তার অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচার স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চলছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের অভিযোগ ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম একাধিক মামলার আসামি হাসানুল হক ইনুর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে বিদেশে বসে একাডেমিক, প্রশাসনিকসহ অন্যান্য বিষয়ে অপরাজনীতি করাসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অর্ধেকের বেশি বিওটি সদস্যদের অংশগ্রহণে সভার এজেন্ডা অনুমোদনের বিধান থাকলেও চলতি বছরের ২০শে আগষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩০তম সভায় ইনু পত্নীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ ১৮টি এজেন্ডা অনুমোদন করেন এই জহুরুল ইসলাম। এ নিয়ে বিওটি অন্যান্য সদস্য ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্ট এর সদস্য মো: জুলফিকার আলী বলেন, বর্তমান বিওটি সদস্যরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চেয়ারম্যান, ভাইস চ্যান্সেলর এবং ট্রেজারার যে ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি করেন এর প্রতিবাদ করায় আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত অবস্থায় আছি। এসব অনিয়মদের বিরুদ্ধে আমরা পূর্বে না পারলেও বর্তমানে ইউজিসি সহ বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ দায়ের করেছি। এ সময় তিনি ৩০ তম বিওটি সভায় নিজে উপস্থিত না থাকার কথা জানান।
তিনি বলেন, ১৪ সদস্যের মধ্যে ভিসি সহ ৭জন সদস্য নিয়ে একটি অবৈধ সভা আয়োজন করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া সহ ১৮টি এজেন্ডা অনুমোদন হয়েছে। আমরা এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যেন দ্রুত এই স্বৈরাচার মুক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তারা ভূমিকা রাখুক।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রফেসর ড. আবু সাইদ মোহম্মদ আলী জানান, দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্বৈরাচারের রাহুগ্রাস মুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর হাসানুল হক ইনু কারাগারে থাকায় অবৈধ ৩০তম বিওটি সভার মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের করা মামলার আসামি হাসানুল হক ইনুর স্ত্রী আফরোজা হক রিনারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে এজেন্ডা পাশ করে।
নানা অনিয়ম-দুর্নীতি এবং অবৈধভাবে বিওটি সভার আয়োজন করে নানা ধরনের উপস্থাপনা পাস করার পাশাপাশি বাংলা এমএ এবং এমবিএ শাখায় ২বছরের কোর্সের অনুমোদন থাকলেও অনুমোদন ছাড়া ১ বছরের এমএ কোর্সে ভর্তি করছে। এ সময় তিনি আরো, বলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যদি এক বছরের কোর্সের অনুমোদন না দেয় তাহলে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কি হবে। এর দায় কে নেবে।
রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে রেজিস্টার আব্দুল লতিফ সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসান উল ইনু প্রসঙ্গে বলেন, তার স্ত্রীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে ৩০তম বিওটি সভায়। তিনি মামলায় জেলে রয়েছেন তাই বলে কি কোথাও বলা আছে তিনি ট্রাস্টিজের সদস্য থাকতে পারবেন না। আসামি হলেও তিনি সদস্য থাকতে পারবেন। আদালতের রায় যদি তিনি সাজা প্রাপ্ত হন তবেই তিনি চেয়ারম্যান পর থেকে অব্যাহতি পাবেন। চার্জসীটভুক্ত আসামি হলেও তো সে অপরাধী না।
ইউজিসির অনুমোদন না থাকায় পরও এমএ বাংলা এবং এমবিএ তে ১ বছরের কোর্সে ভর্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হুট করে চাইলেই তো আমরা বন্ধ করে দিতে পারেন এ প্রক্রিয়া। যদি ইউজিসি না চায় তাহলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির একটানা নয় বছরের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ মোঃ শাহজাহান আলী অবৈধ বিওটি সভার মাধ্যমে জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর স্ত্রীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার বিষয় স্বীকার করেন।
এ সময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার স্বার্থে এমনটি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ মো: জহুরুল ইসলাম এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর স্ত্রী এবং রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর সদস্য আফরোজা হক রিনার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post