ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘হবিরবাড়ী ইউনিয়ন সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ’র নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র দামে বিক্রি করে শিক্ষকদের প্রমোদভ্রমণের খবর প্রকাশের পর এবার চাপের মুখে ভিন্ন মোড়। প্রমোদভ্রমণে খরচ হওয়া টাকার উসুল মিটাতে ইন হাউস কোচিংয়ের তহবিল থেকে স্কুলের অফিশিয়াল ফান্ডে সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে প্রধান শিক্ষক।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক কোচিং করতে বাধ্য করেন। সাধারণ শিক্ষকরা এতে অস্বীকৃতি জানালেও, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিক এবং শিক্ষক প্রতিনিধি (টিআর) মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষকদের কোচিং করাতে বাধ্য করেন। প্রায় দুই মাস কোচিং চালানোর পর শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার টাকা করে ফি ধার্য করা হয়। যা এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকা তোলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে বিদ্যালয়ের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের অব্যবহৃত ইটের খোয়া ও রড মাত্র ৭০ হাজার টাকায় সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের কাছে গোপনে বিক্রি করে শিক্ষকদের প্রমোদভ্রমণের খবর প্রকাশ হয়। পরে চাপের মুখে ভ্রমণে ব্যয় করা ৩০ হাজার টাকার ঘাটতি মেটাতে শিক্ষক প্রতিনিধি (টিআর) মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের ক্ষমতার দাপটের টার্গেট হয় শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের টাকা। কোচিং এর টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মাঝে মন্টন কালে ওই টাকা থেকে মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক নিজের জন্যও ভাগ চায়। পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগণ তাতে অস্বীকৃতি জানালে কৌশলে কোচিং তহবিল থেকে ওই ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পূর্বের ভ্রমণের খরচ সমন্বয় করেন এবং প্রধান শিক্ষক নিজেও নিজের জন্য ১০ হাজার টাকা নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই স্কুলের একাধিক শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সোমবার (২নভেম্বর) বিকেলে চাপের মুখে এবং টিআর মুজাহিদ মল্লিকের কৌশলে কোচিং তহবিল থেকে ওই ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পূর্বের ভ্রমণের খরচ সমন্বয় করেন এবং প্রধান শিক্ষক ১০ হাজার টাকা নেন। এর আগে মুজাহিদ মল্লিক নিজেও কোচিং এর টাকা থেকে ভাগ চেয়েছিলেন বলেও জানান তারা।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে টাকা আদায় এবং সেই অর্থ দিয়ে প্রমোদভ্রমণের খরচ উসুল করার এই ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা পারভিন ও রিমা জানান, প্রধান শিক্ষক কোচিং করাতে অর্ডার দিয়েছে সেজন্য কোচিং করানো হয়েছে। তবে, কোচিং এ একটি ক্লাস নিয়েছেন বলে জানান শিক্ষিকা আফরোজা পারভিন। কোচিংয়ের ফি নির্ধারিত কতো বা তার বৈধতার প্রশ্নে ওই শিক্ষিকাগণ জানান, তাদেরকে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিক টাকা আদায় করতে বলছেন।
এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম মানিক জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন কোচিং পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। কোচিং তহবিল থেকে ওই ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পূর্বের ভ্রমণের খরচ সমন্বয় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই টাকা হাওলাত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আপনি প্রধান শিক্ষক নিজেও ওই তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন যা নিয়ম বহির্ভূত সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আর সংবাদ প্রকাশ না করতে বলেন।
উল্লেখ্য; ভালুকায় স্কুলের নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র দামে বিক্রি করে শিক্ষকদের প্রমোদভ্রমণ ও অনিয়মের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জেরে হবিরবাড়ী ইউনিয়ন সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি (টিআর) মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক, স্কুলের টিআর ও বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করেন এবং বিষয়টি রাজনৈতিক আখ্যা দেন।
এল//দৈনিক দেশতথ্য //ঢাকা //
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post