এসএম জামাল, কুষ্টিয়া থেকে : কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের দক্ষিণ মনোহরপুর নওদাপাড়া। প্রত্যন্ত এই এলাকায় আশেপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ছিল না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক শিশুই নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেত না।
এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে আসেন জেসমিন জুথি নামের এক তরুণী। তার উদ্যোগেই গড়ে ওঠে ‘আলোকিত পাঠশালা’ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঠদান করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগ নিয়ে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় কবি ও সাহিত্যিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ব্যাচ৯৪ এর বিনোদ কুমার আগরওয়ালা, কবি শেখ আক্তার, ‘আলোকিত পাঠশালা’র জেসমিন জুথী, সাংবাদিক এসএম জামাল, শেখ রিপন, কনক রেজা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, গ্রামবাংলায় এমন স্বতঃস্ফূর্ত শিক্ষা উদ্যোগ সত্যিই অনুকরণীয়। তারা মনে করেন, শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি প্রশাসন ও সমাজের প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া সাহিত্যিক শেখ আক্তার বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকায় একটি স্কুল মানে শুধু পড়াশোনা নয়, একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি।”
মহতি উদ্যোগকে স্বাগত প্রকাশ করে ব্যাচ৯৪ এর বিনোদ কুমার আগরওয়ালা বলেন, বিনামূল্যে শিক্ষা পাওয়ায় পরিবারগুলো আর্থিক চাপ ছাড়াই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে।
আলোকিত পাঠশালার এই অগ্রযাত্রা ইতোমধ্যে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সবার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি একদিন সরকারি স্বীকৃতি পাবে এবং আরও বৃহৎ পরিসরে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠাতা জেসমিন জুথি বলেন, “এই এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। অর্থাভাবে যেন কেউ শিক্ষাবঞ্চিত না হয়, সে চিন্তা থেকেই যাত্রা শুরু। ভবিষ্যতে এটিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে স্থায়ীভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার শিশুদের মাঝে স্কুলমুখী হওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। আগে যারা দূরের স্কুলে যেতে পারত না, তারাই এখন নিয়মিত ক্লাস করছে। বইপড়া, হাতের লেখা, মৌলিক গণিত ও নৈতিক শিক্ষা—সব মিলিয়ে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে পাঠদান চলছে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post