জাহিদ হাসান:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযানে অনুপস্থিত মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের ২জন ডাক্তারকে শোকজ করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ ও গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সৃষ্ট মনোমালিন্য নিরসনের জন্যই এই ঝটিকা অভিযানে ও পরিদর্শনে এসেছিলেন।
সংবাদকর্মীরা হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সেগুলোর সত্যতা স্বীকার করে তা অতি দ্রুত নিরসনের আশ্বাসও দেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে ৩ জন কনসালটেন্টের মধ্যে একজন উপস্থিত থাকলেও বাকি দু’জন কোনো কারণ ছাড়া অনুপস্থিত ছিলেন।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, দু’জন কনসালটেন্ট সপ্তাহে ৩-৪ দিন করে আর একজন ৪-৫ দিন করে আসেন|
মেডিসিনের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার কাজী নাজমুল হক শাওন সপ্তাহে রবি, সোম ও বৃহস্পতিবার এই তিন দিন বহির্বিভাগে রোগী দেখেন| কিন্তু শনিবার তিনি ফিঙ্গার ও হাজিরা স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান।
অর্থোপেডিক্স কনসালটেন্ট ডাক্তার মো. ওবায়দুর রহমান রবি ও বুধবার বাদে সপ্তাহে চারদিন আসেন। অভিযোগ উঠেছে, বহুদিন থেকেই তাঁরা সামগ্রিক যোগসাজশের ভিত্তিতে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন এবং অনুপস্থিতির দিনগুলোতে অন্যত্র তাঁরা রোগী দেখেন| ভেড়ামারায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, উক্ত ডাক্তারদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে কিন্ত তাঁরা শুনেন না।
এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাক্তার জাহিদ রায়হান বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করতে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার এস এম কামাল হোসেন ও উপজেলা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেন| তিনি বলেন, এরপরেও যদি এগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে, তাহলে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে| তিনি বিধি মোতাবেক প্রতিটি কনসালটেন্টকে ছয় দিন অফিস করার নির্দেশনা দেন।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post