ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি)র অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের অসহযোগিতায় সাংবাদিকতা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে।
রাশিদুজ্জামান উপস্থিত না হওয়ায় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসন নিয়োগ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, রবিবার সকাল ১০ টা থেকে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের সিদ্ধান্তে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হননি রাশিদুজ্জামান। দলীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি। ফলে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা হলে দু’ঘন্টা অপেক্ষা করেন। পরে নিয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের উদ্রেক সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় আন্দোলনকারীরা দাবি জানান, নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের পেছনের কারণ গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করতে হবে, প্রশাসন ভবনে কারা গিয়ে হুমকি দিচ্ছে তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে, স্থগিত বোর্ড আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, ইতোমধ্যে ঘোষিত সব নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে।
আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মজলিস, জমিয়তে তলাবায়ে আরাবিয়া, ইবি সংস্কার আন্দোলনের নেতা-কর্মীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে জানার জন্য রশিদুজ্জামানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নিয়োগের অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সকল নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্তেই আজকের নিয়োগ বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হননি। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে যাতে বিঘ্ন না ঘটে এ জন্য আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হতে পারে, তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষিতে নির্বাচনের আগে কোন প্রকার নিয়োগ না হোক এটাই আমাদের চাওয়া।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমাদের বোর্ডের বাকি ৩জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরাও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলো। গতকাল পর্যন্ত বিভাগের সভাপতি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি উপস্থিত থাকবেন। তবে আজ তিনি আসেননি, দলগত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি আসতে পারবে না বলে জানিয়েছে। তার অনুপস্থিতির কারণেই আজকের বোর্ডটি স্থগিত করা হয়েছে। অতিসত্বর এই বোর্ডটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ। মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। এর প্রেক্ষিতে বিভাগটিতে তিন পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মাঝে সহকারী অধ্যাপক পদে ২টি ও প্রভাষক পদে ১টি। তবে আজ বেলা ১০ টায় নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড হওয়ার কথা থাকলেও বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বিভাগীয় সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে সকল ধরনের নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন। এছাড়া গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রেজিস্ট্রার বরাবর জাতীয় নির্বাচনের আগে সকল নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানান।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post