মোমেছুর রহমান, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেটের কুষ্টিয়া দধি ভান্ডার, বড় বাজার এনএস রোডের মামা ভাগ্নে দধি ভান্ডার, কমল ঘোষ দধি এন্ড মিষ্টি ভান্ডার, বারখাদা ত্রিমোহনী বাজারে নিউ ফাতেমা মিষ্টান্ন ভান্ডার, সুমাইয়া সুইটস্, লাহিনী বটতলা মোড়ের কুমারখালী সুইটস্, রানা হোটেল এন্ড সুইটস্, বিসমিল্লাহ্ মিষ্টান্ন ভান্ডার, কুটুমবাড়ী মিষ্টান্ন ভান্ডার, মুসলিম সুইটস্, কাশেম ফাষ্ট ফুড এন্ড মিষ্টান্ন ভান্ডারসহ শহরের মজমপুর গেটের কতিপয় হোটেল রেষ্টুরেন্টে পঁচা-বাসী খাবার পরিবেশন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দেশে খাদ্যদ্রব্য ও পণ্য সামগ্রীর ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে শুরু হয় ভেজাল বিরোধী অভিযান। প্রথম পর্যায় ভেজাল বিরোধী অভিযান জনসাধারণের মাঝে আশার আলো দেখালেও বর্তমান এর কার্যক্রম একেবারেই থেমে গেছে। দেশে খাদ্য দ্রব্যে রং , ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য পঁচাবাসী খাবার, ফ্রিজে রাখা খাবার, কমদামে ফার্ম থেকে কিনে আনা অসুস্থ্য গরু-ছাগল, মরা মুরগীর মাংশ, পোড়া সয়াবিন তেল, উন্মুক্ত স্থানে খাবার বিক্রি, মেয়াদবিহীন পণ্য বিক্রি, মাছ-মাংশ, ফলমুল এমনকি শাক সবজিতেও বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া যাচ্ছে। নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী পরিবেশনসহ সামগ্রিক বিষয়ে জনস্বাস্থ্য এক মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে গেছে। মানুষ এসব ভেজাল খাদ্য খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। বর্তমান সুস্থ্য মানুষ খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ভেজাল বিরোধী অভিযানে মোবাইল টিম শত শত অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ জরিমানা আদায় করে। ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও ভেজাল বিক্রির দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ও সতর্ক করে দেওয়া হয়। ভেজাল বিরোধী অভিযানের ফলে প্রতিদিন উদ্ধার করা হয় হরেক রকম ভেজাল খাদ্য দ্রব্য ও পণ্য সামগ্রী। বিপুল সংখ্যক নামী দামী কোম্পানি ও হোটেলকে জরিমানা করা হয় ভেজালের দায়ে। এরফলে অনুমোদনহীন বেশ কিছু অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সন্ধানও পাওয়া যায়। ভেজাল বিরোধী অভিযানের ফলে বেরিয়ে আসে বিএসটিআইর দূর্র্নীতি ও দায়িত্ব অবহেলার বাস্তব চিত্র। অপরদিকে ভেজালের জোয়ারে ভেসে বেড়ানো সাধারণ মানুষের অসহায় চিত্রগুলো হাসপাতালে গেলে দেখা যায়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যে সকল রোগী ভর্তি রয়েছে তার অধিকাংশ রোগী ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করার ফলে অসুস্থ্য হয়ে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মনে করেন ভেজাল বিরোধী অভিযান নিয়মিত ভাবে শুরু হলে জেল জরিমানার ভয়ে ভেজালকারীরা কিছুটা হলেও ভেজাল কারবার থেকে বিরত থাকবে। এ অভিযান চলার কারণে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে। বাজারে ফিরে আসে ভেজাল মুক্তির নূ্যূনতম পরিবেশ। সাধারন মানুষ ভেজালের রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাবার অপেক্ষা করতে থাকে। এতে ভেজাল বিরোধী অভিযান সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন পায়। ভেজালের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু হঠাৎ করে ভেজাল বিরোধী অভিযান থেমে যাওয়ায় জনসমাজে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিনা নোটিশে বন্ধ হয়ে গেল ভেজাল বিরোধী অভিযান। একটি সূত্র জানায়, ভেজাল বিরোধী অভিযান বন্ধ হওয়ার পেছনে কাজ করছে একটি অদৃশ্য শক্তির কালো হাতের ইশারা। এসব কারনে থেমে গেছে ভেজাল বিরোধী অভিযান।
এল//দৈনিক দেশতথ্য //ঢাকা //
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post