এনামুল হক: কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্য সহকারীসহ ১১৫টি বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম, দূর্ণীতির
অভিযোগ তদন্তে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ৩সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করেছেন।
সোমবার বেলা ১১ টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তদন্ত দল অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক নানা নমুনা জব্দ ও সন্দেহ ভাজনদের যৌথ টিম জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এসময় সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোঃ কামাল হোসেনসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মো: হোসেন ইমামসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: খায়ের আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩সদস্যের স্বাস্থ্য বিভাগের টিম এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্বনিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মইনুল আহসান রওশনীর নেতৃত্বে ৩সদস্যের টিম। তাদের তদন্ত বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন। প্রথমিক ভাবে যৌথ এই তদন্তকারী দল অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে এই অভিযোগের মূল উৎস বা কেন্দ্রবিন্দুকে সনাক্ত করতে আরও কিছু
বিষয় যাচায় বাছায়ের প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
যদিও অভিযোগ সন্দেহের তীরবিদ্ধ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মো: হোসেন ইমাম তার ক্লিনিকে এবং বাসায় যে সব পরীক্ষার্থীদের দেখা গেছে তাদের বিষয়ে কিছুই জানেন বলে দাবি করেন।
দুদক কর্মকর্তা মইনুল আহসান রওশনী বলেন, ‘স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ যেসব অনিয়মের অভিযোগ এসেছে সেগুলি খতিয়ে দেখছি। এগুলি যাচায় বাছায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহ জনক ও প্রাসঙ্গিক নানা উপকরণ ও ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এগুলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কার
কতটুকু দায় বা দোষ আছে সেগুলি নিরূপন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিম প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জনবল নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু একটা অনিয়মের গন্ধ আমরা পেয়েছি, এই গন্ধটার মূল উৎস বা
গোড়া কোথায় বা কে এর সাথে জড়িত সেটা সনাক্তের কাজ চলছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার
সুপারিশ করা হবে’।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ঐদিনই ভোররাতে কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রাবাসে ৩০ জন পরীক্ষার্থীকে প্রশ্ন দেওয়া এবং তাদের পরীক্ষা নেয়ার দৃশ্য
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা শনিবার কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন ও
প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং গতকাল রবিবার কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন
কার্যালয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং দোষীদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা গ্রহণসহ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা। এরই
পেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করা হয়।
ক্যাপশন ছবি দেয়া আছে।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post