মাহাবুল ইসলাম, গাংনী: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়া নাজমা খাতুন দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজসিক সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে অবসরে গেলেন।
১৯৮৬ সাল থেকে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আজ মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর স্মৃতিচারণের আবহ।
এসময় সহকর্মীরা বলেন, নাজমা খাতুন শুধু একজন আয়া ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিদ্যালয় পরিবারের একজন অভিভাবকসুলভ সদস্য। প্রতিদিন সবার আগে বিদ্যালয়ে এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্কাস আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, নাজমা খাতুন ছিলেন আমাদের বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি যে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। একজন আয়া হয়েও তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন মায়ের মতো স্নেহশীল। তাঁর অবদান শুধু কর্মক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছেন। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় অবসর জীবন কামনা করি।
বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নাজমা খাতুন বলেন, আমি যখন এই বিদ্যালয়ে যোগদান করি তখন ছোট ছিলাম। এখানেই কেটেছে আমার জীবনের অধিকাংশ সময়। এই বিদ্যালয়ই ছিল আমার দ্বিতীয় পরিবার। এখানে কাটানো প্রতিটি দিন আমার জীবনের অমূল্য স্মৃতি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার ভালোবাসা আমি কখনো ভুলবো না।
অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং এক আনন্দঘন র্যালির মাধ্যমে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টানলেও নাজমা খাতুনের অবদান চিৎলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানান বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মজনুর রহমান, সহকারি শিক্ষক লাইলা আরজুমান বানু, শাহিনা আক্তার বানু ও শিক্ষক সাধন মন্ডল।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post