গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বর্তমানে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে অফিসটির সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলামের বিরুদ্ধে।
যোগদানের পর থেকেই সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং দলিল রেজিস্ট্রিতে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলাম বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নিকটতম আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজস্ব নিয়মে অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকারিভাবে সকল সরকারি অফিসে রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও ছুটি ঘোষণা করা হলেও গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ওইদিন ছুটি উপেক্ষা করে অফিস চালু রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী দলিল ফাইলিং ফি ৩৬০ টাকা হলেও গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে নিয়মবহির্ভূতভাবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে সপ্তাহে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অবৈধ আয় করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ায় এই অঙ্ক আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নামজারি ছাড়া বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে না- ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অথচ জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে ওয়ারিশ সূত্রে জমি রেজিস্ট্রি হলেও গাংনীতে তা বন্ধ রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে গোপনে ওয়ারিশ সূত্রের জমি রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলামের ইন্ধনে অফিস সহকারী নার্গিস আক্তার দীর্ঘদিন ধরে দলিল ফাইলিংয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছেন। এছাড়া দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসহি দিতে ‘মসজিদ উন্নয়ন ফান্ড’-এর নামে সরকারি রশিদ ছাড়াই দলিলপ্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই অর্থ আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন অফিসের নাইট গার্ড মহিবুল ইসলাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদ উন্নয়নের নামে আদায় করা এসব টাকা সাব-রেজিস্ট্রারসহ অফিসের সকল কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়। এতে সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গাংনী দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলামের চাপে তারা বাধ্য হয়ে ৩৬০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা ফি জমা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নির্ধারিত টাকার কম হলে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন দলিল লেখকরা। বিষয়টি প্রকাশ পেলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাজিপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, “আমি দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে ফাইলিং ও অফিস ফি বাবদ ৩৬০ টাকার জায়গায় ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগ করেন দেবীপুর গ্রামের চাঁদ আলী।
ধর্মচাকী গ্রামের হুমায়ুন কবির বলেন, “দলিলপ্রতি ১ হাজার টাকা ফাইলিং ফিস নিয়েছে। পরে শুনেছি সরকারি ফি মাত্র ৩৬০ টাকা।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post