স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রাম বিভাগে গত পাঁচ দিনের টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকার নগদ অর্থ, চাল ও শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি এবং জেলা প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৪১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২০৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে কক্সবাজারে ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো মানুষ আশ্রয় নেয়নি।
দুর্গতদের সহায়তায় গত ৭ ও ৯ জুলাই দুই দফায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
প্রথম দফায় গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৯ জুলাই শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
একই দিনে দুর্গত এলাকাগুলোর জন্য নতুন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা দুর্গত মানুষের জন্য সুপেয় পানি, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিশু খাদ্য এবং তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে বাড়ি করে দেওয়ার ঘোষণা
পাহাড় ধসে প্রতিবছর প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ের নিচে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এসব কথা জানান। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক পাহাড় ধসে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙ্গামাটিতে ১ জন এবং বান্দরবানে ৫ জন মারা গেছেন।
তিনি জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিপুলসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য ও তিন বেলার খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৭ জুলাই প্রথম দফায় প্রতিটি দুর্গত জেলায় ১০ লাখ টাকা করে জিআর (গ্রাটুইটাস রিলিফ) ক্যাশ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির বিবেচনায় পরে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে নতুন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং বাকি তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে প্রতিটি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থান করছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আর//দৈনিক দেশতথ্য// ঢাকা।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post