চট্টগ্রাম দেশের বৃহৎ শিল্প ও বানিজ্যিক নগরী হিসাবে অর্থনীতির প্রাণ কেন্দ্র, দেশের আমদানী রূপ্তানীসহ ভোগ্য পণ্যের সিংহভাগ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয় বিধায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো পণ্যের মান পরীক্ষায় একটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা।
১২ জানুয়ারি সকালে নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসে আঞ্চলিক পণ্য পরীক্ষাগার পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।
ক্যাব চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম চেম্বারসহ ব্যবসায়ীদের দাবিও একটি মানসম্মত ল্যাব সুবিধা স্থাপন করা। যার মাধ্যমে উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তার পণ্যের মানের বিষয়ে সঠিক নির্ভূল তথ্য পাওয়া সহজ হয়। তারই আলোকে সরকারের শিল্প মন্ত্রনালয় চট্টগ্রামে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি পণ্যের মান পরীক্ষাগার স্থাপন করেছেন। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান দেশের ক্রেতা ভোক্তাদেরে জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্টান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ।
ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের নেতৃত্বে ক্যাব চট্টগ্রাম প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন,বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক(মেট্রোলজি) ও অফিস প্রধান প্রকৌশলী মোমেন উস সাজ্জাদ। আলোচনায় অংশনেন বিএসটিআই উপ-পরিচালক(সিএম) খালিদ রেজা চৌধুরী, সহকারী -পরিচালক(রসায়ন) ডঃ খোরশেদ আলম, সহকারী পরিচালক(মেট্রোলজি) পুজন কর্মকার, সহকারী পরিচালক(সিএম), রিগ্যান বৈদ্য, সহকারী পরিচালক(সিএম) মনতোষ কুমার দাস, সহকারী পরিচালক(সিএম) ফারহানা জাহান পারুল, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক মোঃ সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব চান্দগাও থানা সভাপতি মোঃ জানে আলম, সাধারন সম্পাদক ইসমাইল ফারুকী, সদরঘাট থানা সভাপতি শাহীন চৌধুরী, বায়েজিদ থানা সভাপতি ও সবুজের যাত্রার নির্বাহী পরিচালক সায়েরা বেগম, পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির, পাহাড়তলীর হারুন গফুর ভুইয়া, ক্যাব চট্টগ্রামের প্রকল্প সমন্বয়কারী শম্পা কে নাহার ও যুব ক্যাব চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী রাইসুল ইসলাম প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদান কালে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় পণ্য পরীক্ষাগার সুবিধা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ভোক্তারা মানসম্মত পণ্য প্রাপ্তির সুযোগ অনেকাংশে বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, “খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ বাস্তবতা হলো এই খাদ্যই আজ নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন যে চাল, ডাল, শাকসবজি, ফল, মাছ ও মাংস আমরা গ্রহণ করছি, তার বড় একটি অংশে রয়েছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু ও নিষিদ্ধ উপাদান। এটি কেবল জনস্বাস্থ্যের সংকট নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি আঘাত।”
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অফিস প্রধান মোঃ মোমেন উস সাজ্জাদ বলেন, “বাজারে ভেজাল ও মানহীন পণ্যের বিস্তার নতুন কোনো সমস্যা নয়। যখনই নজরদারি দুর্বল হয়েছে, তখনই অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছে এবং এর খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।”
চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিএসটিআই এর যে কোন কর্মকান্ডে ক্যাব সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এ বিষয়ে গণসচেতনতা বিকাশ, মাঠ পর্যায়ে বাজার তদারকি জোরদারে স্টেকহোল্ডার সভা আয়োজন, গণশুনানীর আয়োজনসহ যৌথভাবে বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post