কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় শ্রমিক নিপীড়নের প্রতিবাদ ও চাকুরী স্থায়ীকরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএটিবির ফিল্ড টেকনিশিয়ান এবং অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সংগঠনের সভাপতি আরিফুলের সভাপতিত্বে শহরের চিলিস রেস্তোরা মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বিএটিবির মদদপুষ্ট ভেন্ডর কর্তৃক দীর্ঘদিনের শ্রমিক শোষন, নির্যাতন-নিপীড়ন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুজন সেখ।
লিখিত বক্তব্যে বলেন- সারা দেশে বিএটিবি’র ৮টি ডিপোতে তাদের পছন্দের ভেন্ডর এসএম লজিষ্টিক প্রা: লিমিটেডের মাধ্যমে নিযুক্ত কুষ্টিয়ার দেড় শতাধিকসহ সারাদেশের ৪শতাধিক শ্রমিকদের বছরব্যাপী সর্ববিধ কাজ করালেও চাকুরী বিধিমতে তাদের ন্যায্য মজুরী ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছে বিএটিবি। ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সকল মহলে আইনী প্রতিকার চেয়ে আবেদন নিবেদন করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি উপরন্তু দাবির স্ব-পক্ষ শ্রমিকদের দুরদুরান্তে স্থানান্তরসহ নেমে এসেছে নির্যাতনের খড়গ। অবিলম্বে শ্রমিকদের এসব ন্যয়সংগত দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান করেন নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় দাবি আদায়ে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেয়ার আল্টিমেটাম ঘোষনা করেন।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএটিবি’র রংপুর, মানিকগঞ্জ, আল্লারদর্গা, চেচুয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদাহ, চট্টগ্রামসহ সকল রিজিওনে ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে বছরের ১২ মাস অধিক মুনাফা আয় করছে। অথচ এই সেক্টরে কর্মনিযুক্ত শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত ও নির্যাতন নিপীঢ়নের শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে এই বঞ্চনার মুক্তি চাই’।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম জানায়, ‘একটা সময়ে কোম্পানির এসব কর্মসম্পাদনকারী শ্রমিকরা স্থায়ী জনবল হিসেবে নিযুক্ত হয়ে কাজ করতো। অথচ এদেশীয় কতিপয় এজেন্ট দালালদের কাজে লাগিয়ে এবং শ্রমিকদের মাঝখানে কৌশলে আউটসোর্সিংএর নামে একটা সুরক্ষা দেয়াল তুলে দিয়ে কার্যত: শ্রমিকদের প্রতিপক্ষের সারিতে দাঁড় করিয়ে নানামুখি নিপীঢ়ন চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা যখনই তার ন্যায্য মজুরীসহ প্রাপ্যতার দাবি নিয়ে দাঁড়াচ্ছে তখনই বিএটিবি তাদের ভেন্ডর কর্তৃক নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা করে ও মামলা দিয়ে শ্রমিকদের দমিয়ে রাখার পথ বেঁছে নিয়েছে’। এসবের প্রতিকার চেয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুষ্টিয়ার দ্বারস্থ হয়েছি’।
এবিষয়ে আলাপকালে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার শ্রম পরিদর্শক ইশতিয়াক আহমেদ জানান, ‘শ্রমিকদের দাবিগুলিকে আমলযোগ্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এবিষয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটা তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
তবে এবিষয়ে অভিযুক্ত ভেন্ডর এসএম লজিষ্টিক প্রা: লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করে এবং খুদে বার্তা প্রেরন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এল//দৈনিক দেশতথ্য //ঢাকা //
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post