কুমারখালী প্রতিনিধি: অনলাইনে বাড়ি ভাড়া বা ফ্ল্যাট বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এসব চক্র ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ওএলএক্স (OLX) বা ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেয় এবং অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেয়।
ভ্যাকেশন রেন্টাল বা অবকাশ যাপনের ঘর ভাড়া দেওয়ার নামে ইউএসএ-ভিত্তিক (এবং বাংলাদেশিদের টার্গেট করে) একটি চক্র দীর্ঘ দুই বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা (৮.৫ মিলিয়ন ডলার) হাতিয়ে নিয়েছে। তারা একই প্রপার্টি একাধিক ব্যক্তির কাছে বুকিং দিয়ে শেষ মুহূর্তে ভুয়া কারণ দেখিয়ে বুকিং বাতিল করে টাকা আত্মসাৎ করছে।
এরা এতোটাই প্রভাবশালী এলাকার অভিভাবকেরা এরা কি করে,এতো টাকা পাচ্ছে কিভাবে জানতে গেলে মারপিটের স্বীকার হয়েছে। থানায় মামলা হয়ে জেল খেটে এসে আবার এলাকায় দাপটের সাথে অবৈধ কাজ করছে।
এরা বেশির ভাগ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের মানুষদের টার্গেট করে এই অপকর্ম চালিয়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। বিদেশীদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশে তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি।
বিদেশী সীমকার্ড ও এ্যাপের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেস, জমি- বাড়ি বিক্রি ও ফ্লাট ভাড়ার চটকধারী বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সামান্য অর্থ প্রথমে ৫০/৬০ ডলার পরে আরো ২০/৩০ ডলার নিয়ে আস্থা তৈরির চেষ্টা করা হয়।
এরপর ভূক্তভোগীকে তাদের এই গ্রুপে যুক্ত করা হয়, যেখানে ভুয়া সদস্যরা অভিনয় করছিলেন যে, তারা আমেরিকার বিভিন্ন শহরের নাম দেখিয়ে জমি-বাড়ি ও ফ্লাট ভাড়া নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী ধাপে বড় টাস্কের কথা বলে প্রতারকরা ক্রিপট অ্যাকাউন্ট খুলতে আরো ডলার বিনিয়োগ করতে বলে।
ভুক্তভোগী ডলার পাঠানোর পর তাকে ভিআইপি টাস্ক গ্রুপে যুক্ত করা হয়। যখন ভূক্তভোগী বুঝতে পারে তিনি প্রতারকের খপ্পরে পরেছেন। তখন ভিআইপি টাস্ক গ্রুপ থেকে বের হতে চাইলে,ভূক্তভোগীকে আরো চাহিদা মতো ডলার প্রদান করে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যায়।
এইভাবে এই চক্রটি প্রায় ২ বছরে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।
এই চক্রটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসাতে ২৫/৩০ টি ল্যাপটপে ছেলেদের দিয়ে এই প্রতারনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়,কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের সদকী গ্রামে সিদ্দিক ওরফে কাঠুরে এর ছেলে সহিদ (২৩) ৮ম শ্রেণী পাশ।অনলাইনে এই প্রতারনার কাজ শিখে এখন সে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। অবশ্য সে অবৈধ অর্থ বৈধ করার জন্য রাজস্ব প্রদান করছে। কিন্তু কোন গোয়েন্দা সংস্থা খোঁজ নিচ্ছে না,এতো টাকা কিভাবে পাচ্ছে,কোথা থেকে আসছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন,বেশ কয়েকবার হানা দিয়েছিল কুষ্টিয়ার ডিবি ও কুমারখালী থানা পুলিশ,কিন্তু সুচতুর সহিদ তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ফেলেছে। এবং প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসিক মাসোয়ারা দিচ্ছে।
সদকীর করাতকান্দী বিলে কোটি টাকার উপরে জমি ক্রয়,ফুলতলায় কোটি টাকার জমির উপর ভবন নির্মান,১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দামের সিভিক নিউ মডেলের প্রাইভেটকার,কুষ্টিয়া মেডিকেলের সামনে ৩ কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রয়। অবশ্য সুচতির সহিদ মা ও বাবার নামেই বেশী জমি ক্রয় করেছে।
সাংবাদিকের আনাগোনা শুরু হওয়ার পরে এখন আর নতুন করে কোন জমি ক্রয় করছে না। প্রশ্নতো আসতেই পারে এতো টাকা পাচ্ছে কোথায়? সেই দিকে চিন্তা করে দুবাই থেকে ল্যাপটপ আমদানী করে দেশের যশোর,খুলনা,ঢাকা ও চট্রগ্রামে দোকান নিয়ে শো-রুম খুলে বসেছে। এমনকি করাতকান্দী বিলে কয়েকটি পুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষ করছে যেনো বলতে পারে আমি এই সকল ব্যবসা থেকে অর্থ উপার্জন করছি। এক প্রশ্নের উত্তরে সহিদ বলে,করাতকান্দী বিলের জমি মায়ের নামে,মা বিদেশে ১১ বছর ছিল সেই টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি,ফুতলার বাড়ি ,প্রাইভেটকার কিভাবে পেলে তার সদুত্তোর দিতে পারেনি।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post