Monday, 9 November 2026
🕗
দৈনিক দেশতথ্য
Advertisement
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয় খবর
  • স্থানীয় খবর
  • বিদেশি খবর
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • কৃষি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • ধর্ম
  • আইটির খবর
  • লাইফস্টাইল
    • ভ্রমণ তথ্য
  • সম্পাদকীয়
    • মতামত
  • অন্যান্য
    • প্রাপ্ত বয়ষ্কদের পাতা
    • সাহিত্য ও সংষ্কৃতি
    • স্মৃতিচারণ/স্মরণ
    • ফটো গ্যালারী
  • ই-পেপার
No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয় খবর
  • স্থানীয় খবর
  • বিদেশি খবর
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • কৃষি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • ধর্ম
  • আইটির খবর
  • লাইফস্টাইল
    • ভ্রমণ তথ্য
  • সম্পাদকীয়
    • মতামত
  • অন্যান্য
    • প্রাপ্ত বয়ষ্কদের পাতা
    • সাহিত্য ও সংষ্কৃতি
    • স্মৃতিচারণ/স্মরণ
    • ফটো গ্যালারী
  • ই-পেপার
No Result
View All Result
দৈনিক দেশতথ্য
No Result
View All Result

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২৮২৮ ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট, নিয়োগে প্রশ্নের মুখে ইসলামী ব্যাংক

দেশতথ্য ডেস্ক by দেশতথ্য ডেস্ক
Wednesday, 23 September, 2026.
in জাতীয় খবর, প্রধান খবর
Reading Time: 1 min read
0
বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২৮২৮ ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট, নিয়োগে প্রশ্নের মুখে ইসলামী ব্যাংক
Share on FacebookShare on Twitter Share on E-mail Share on WhatsApp
সৃনির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ইসলামী ব্যাংকে  ৮ হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে বড় অংশই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এই প্রক্রিয়ায়।
এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশই চট্টগ্রামের, বিশেষ করে সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার বাসিন্দা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে ইসলামী ব্যাংকের ওই সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১। এর মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জনকে। ওই সময় ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৬৬ জন ছিলেন লেটারাল এন্ট্রির মাধ্যমে এবং ১০ হাজার ৩৩৬ জন সরাসরি প্রবেশ পর্যায়ে নিয়োগ পান।

ইসলামী ব্যাংকের প্রচলিত নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিধান ছিল। প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। উভয় পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো।

কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটে। ওই সময় ৮ হাজার ৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিয়মসিদ্ধ করার জন্য ওই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় নতুন করে বলা হয়, ‘জরুরি প্রয়োজন’ দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল নিয়োগবিধির ৭.০১ ধারা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। ওই ধারায় বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে সাধারণত সীমিতসংখ্যক লেটারাল এন্ট্রি বা বিশেষায়িত কারিগরি পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে সেই বিধান ব্যবহার করে প্রবেশনারি পর্যায়েই ছয় হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অস্বাভাবিক।

আরও বলা হয়েছে, ওই সময় ব্যাংকে বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। বরং বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, তা ব্যাংকের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল বলে সে সময়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এস আলমের নিয়ন্ত্রণকালে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনই পটিয়ার বাসিন্দা। পটিয়া এস আলমের জন্মস্থান হওয়ায় এই নিয়োগের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের প্রার্থীদের আবেদন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পাওয়ায় ব্যাংকে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে পরিদর্শনে তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের বাক্স রাখা হতো। এসব বাক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’ ও ‘ডিপ্লোমা’সহ বিভিন্ন পরিচয় লেখা থাকত।

এসব বাক্সে জমা পড়া সিভি থেকে পছন্দের প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। এরপর প্রধান কার্যালয় থেকেই তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নিয়োগবিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাচের নিয়োগে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ জন প্রার্থীর একটি তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৬৩ জন।

ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু ওই নম্বর অর্জন করতে পারেন মাত্র ৩৬ জন। এরপর পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এর ফলে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন।

এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই আরও ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এই প্রার্থীদের সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন পরে চাকরিতে যোগ দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আরও বেশ কিছু পদে নিয়োগবিধি না মানার তথ্য পাওয়া গেছে।

এই সময়ে ২ হাজার ২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে ২ হাজার ৮২৮ জন এবং ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে ৫০১ জনকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

লেটারাল এন্ট্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ৪৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৬৪ জনই চট্টগ্রাম জেলার প্রার্থী।

পরিদর্শনের সময় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঢাকায় কর্মরত ওই সময়ের ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

তাদের সবাই জানান, তারা সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন কোনো ধরনের মৌখিক পরীক্ষাও দেননি বলে লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন।

কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তারা সুগন্ধা আবাসিক এলাকা ও পাঁচলাইশে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে রাখা বাক্সে সিভি জমা দিয়েছিলেন। সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পরে যোগদানপত্রও দেওয়া হয় বলে তারা জানান।

শুধু সাধারণ কর্মী নিয়োগ নয়, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ না করার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসলামী ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ডিএমডি পদে নিয়োগ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। একই সঙ্গে যোগদানের আগে মোট ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রয়েছে।

কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। ডিএমডি হওয়ার আগে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা।

অন্যদিকে ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিনের মোট অভিজ্ঞতা ছিল ১৭ বছর, যেখানে নীতিমালায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল। ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও তার ছিল এক বছরের অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর ইসলামী ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তনগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার বাধ্যবাধকতাও অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত থাকে না। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা পালন করে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নিরীক্ষার দায়িত্ব দেয়। সেই নিরীক্ষাতেও এস আলমের সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এই পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার ৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল থাকেন।

অন্যদিকে ৪ হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশ নেননি। ব্যাংকের অভিযোগ, তাদের কয়েকজন পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী কর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পাশাপাশি কর্মবিরতি, সড়ক বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও ওঠে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে। পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুসারে ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ওই কর্মীদের নিয়োগ বৈধ না অবৈধ—শুধু এই বিবেচনায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করা হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া পূর্ণ করার সুযোগ হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি এবং অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দিয়েছেন। ফলে ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের আওতায় দেখেছে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
Previous Post

এশিয়ান গেমসে টানা তৃতীয় পরাজয় বাংলাদেশের নারী হকি দলের

Next Post

পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে জরিমানা ১০ হাজার টাকা

Related Posts

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২৩৩৩
প্রধান খবর

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২৩৩৩

সুউচ্চ ভবন, গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণকাজে আটকে যাচ্ছে দূষিত বাতাস
জাতীয় খবর

সুউচ্চ ভবন, গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণকাজে আটকে যাচ্ছে দূষিত বাতাস

নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয় খবর

নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Next Post
পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে জরিমানা ১০ হাজার টাকা

পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে জরিমানা ১০ হাজার টাকা

Discussion about this post

সর্বশেষ সংবাদ

কোটালীপাড়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

কোটালীপাড়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী চিকিৎসকের মৃত্যু

কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী চিকিৎসকের মৃত্যু

জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা হাসিব চৌধুরী

জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা হাসিব চৌধুরী

গাংনীতে নবাগত প্রাথমিক শিক্ষকদের সংবর্ধনা

গাংনীতে নবাগত প্রাথমিক শিক্ষকদের সংবর্ধনা

কুষ্টিয়ায় ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

কুষ্টিয়ায় ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

আর্কাইভ

November 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
« Oct    

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল বারী
ইমেইলঃ [email protected]

Mobile No- +88 01710862632
ঢাকা অফিসঃ ৩৩ কাকরাইল (২য় তলা)
ভিআইপি রোড, কাকরাইল ঢাকা -১০০০
প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠানোর ইমেল:
[email protected]
কুষ্টিয়া অফিস: দৈনিক দেশতথ্য
দাদাপুর রোড (মজমপুর)
(কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সামনে)
মোবাইল:01716831971

Copyright © 2024 dailydeshtottoh All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয় খবর
  • স্থানীয় খবর
  • বিদেশি খবর
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • কৃষি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • ধর্ম
  • আইটির খবর
  • লাইফস্টাইল
    • ভ্রমণ তথ্য
  • সম্পাদকীয়
    • মতামত
  • অন্যান্য
    • প্রাপ্ত বয়ষ্কদের পাতা
    • সাহিত্য ও সংষ্কৃতি
    • স্মৃতিচারণ/স্মরণ
    • ফটো গ্যালারী
  • ই-পেপার

Copyright © 2024 dailydeshtottoh All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist