কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় বিজ্ঞান ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াড- ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টায় প্রফেসর লাল মোহাম্মদের সভাপতিত্বে কুষ্টিয়া সরকাররী কলেজ ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এই অলিম্পিয়াডে প্রধান অতিথি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেরসর আব্দুল লতিফ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ।
এসময় সেখানে বিজ্ঞান বিভাগের সকল শিক্ষকদের উপস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক বিজ্ঞান শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করেন। উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথি বলেন- বিজ্ঞান শিক্ষার মজবুথ ভীত ছাড়া বৈশি^ক প্রেক্ষাপটে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কোন বিকল্প নেই।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় কুষ্টিয়া সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের তাবাসুম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমাদের কুষ্টিয়াতে স্কুলগুলিতে বিজ্ঞান শিক্ষার যে দৈন্যদশা এই অবস্থায় তবুও বছরে একবার করে হলেও অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে অনেক অজানা বিষয় আমরা জানতে পারি। প্রতিযোগিতায় প্লেস করতে পারলে আর বেশি ভালো লাগে এবং আমরা উৎসাহিত হই।
শ্রেনীকক্ষের বাইরে অপেক্ষামান জামিরুল ইসলাম নামে একজন অভিভাবক জানান, ‘কুষ্টিয়াতে বিজ্ঞান শিক্ষা হয়ে গেছে সোনার হরিণ’। কোন স্বাভাবিক মানের আয় রোজগারের টাকায় বাচ্চাদের বিজ্ঞান শিক্ষার চিন্তা এখন অলিক কল্পনা মাত্র। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরের বাচ্চাদের সাইন্স পড়িয়ে একটা কাঙ্খিত ফলাফলের জন্য একটা বাচ্চার পিছনে প্রাইভেট টিউটর ও কোচিংসহ নূন্যতম প্রতিমাস ২০ হাজার টাকার হিসেব গুনতে হয় পিতামাতাকে’। এমন অবস্থায় প্রতিবছর এই বিজ্ঞান গণিত ইংলিশ বা ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে বাচ্চারা বুঝতে পারে তাদের বিজ্ঞান শিক্ষার ভীত কতটুকু শক্ত হয়েছে’।
এই আয়োজনের সভাপতি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর বৈশি^ক প্রেক্ষাপটে টিকে থাকার লড়াইয়ে জিততে হলে বিজ্ঞান শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আজকের এইআই বা চ্যাট জিপিটির যুগে প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করতে হলে বিজ্ঞান শিক্ষায় পিছিয়ে থাকলে সেটা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। আলট্রা মডার্ণ টেকনোলজির সুবিধা শুধু নিলেই হবে না সেখানে নিজেকেও কন্ট্রিবিউট করতে হবে এবং সেটা অবশ্যই বিজ্ঞান শিক্ষার সিঁড়ি বেয়েই এগোতে হবে’ এসব কিছু লক্ষ্য নিয়েই বিজ্ঞান এবং ফিজিক্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিজ্ঞান শিক্ষার ভীত গড়ে তুলতে উৎসাহিত হয়।
আয়োজনের প্রধান অতিথি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল লতিফ বলেন- সত্যি কথা বলতে নানাবিধ প্রতিকুলতা সত্ত্বেও আমাদের শিক্ষকরা তাদের শ্রম ও মেধার সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছেন। তারই একটা অংশ আজকের এই বিজ্ঞান ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াড। এই আয়োজনে অন্তত: শিক্ষকরা যাতে বুঝতে পারেন তার বিজ্ঞান শিক্ষায় পাঠদানের ফলাফল কি এবং শিক্ষার্থীরাও নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পায়। কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের বিজ্ঞান শিক্ষার্থীরা এজাতীয় আয়োজনের মধ্যদিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করে থাকে এবং প্রতি বছর একটা এখান থেকে পাস করে বেড়িয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ দেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে থাকে। এটাই আমাদের সফলতা।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post