মোমেছুর রহমান, কুষ্টিয়া:
কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শব্দ দূষনের শিকার হচ্ছে কুষ্টিয়াবাসী। ছোট্ট এই শহরে কোচিং সেন্টার, কম্পিউটার সেন্টার, মাংশ বিক্রি, মুরগী বিক্রি, সবজি বিক্রি, ওষুধ বিক্রি, ভাংড়ী ক্রয়, চিকিৎসা, শো-রুম উদ্বোধন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, কর্মিসভা, মিটিং-মিছিল, রাজনৈতিক সভা, বিভিন্ন পন্য বিক্রিসহ বিভিন্ন ব্যাপারে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি মাইকে উচ্চ শব্দে প্রচার চলছে কুষ্টিয়া শহরে। এর সাথে হিন্দী অথবা বাংলা অশ্লীল গান
বাজানো হয়ে থাকে বেশ জোরে সোরে। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, কারাগার কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উচ্চ আওয়াজে মাইক ব্যবহার করে আসছে। আসামীদের নাম ধরে ডেকে আনা, রোলকল করা, বিভিন্ন ম্যাসেজ ও বার্তা পৌছে দেয়া, আসামী ও কয়েদিদের স্বজনরা দেখা করতে আসলে তাদেরকেও মাইক ব্যবহার করে ডাকা হচ্ছে।
পূর্বে এমন কোন নিয়ম ছিলনা। আসামীদের কারারক্ষী বা সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিতদের মাধ্যমে ডেকে আনা হতো নির্ধারিত সময়ের জন্য।
এছাড়াও কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন মোড়ে মাইক ভাড়া, কম্পিউটার,অডিও, রেডিও, ভিডিও, সিডি, ইলেক্ট্রিক সার্ভিসিং সেন্টার, মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার, চা-স্টল, বিভিন্ন হকার মাইক ব্যবহার করছে। বিভিন্ন দোকান গুলোতে উচ্চ শব্দে বাজানো হচ্ছে লাগাতার গান। প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রচার করা হয় সু-খবর সুÑখবর বলে মহিষের মাংস বিক্রির করার বিজ্ঞাপন। ব্যপক ভাবে অভিযোগ রয়েছে কতিপয় বাইকারদের বিরুদ্ধে। তারা তাদের মোটরসাইকেলে উচ্চ আওয়াজে শব্দ তৈরী করতে সাইলেন্সার পাইপের সাথে অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ সংযোগ করে বিকট শব্দ তৈরী করছে। এটিকে সাধারণত মডিফাইড এক্সক্লুসিভ সাইলেন্সার বা চলতি ভাষায় হাইড্রোলিক হর্ণ এবং পটকা সাইলেন্সার বলা হয়ে থাকে।
মূলত কতিপয় বখাটে জাতীয় বাইকাররা তাদের মোটরসাইকেল থেকে অরিজিনাল সাইলেন্সারটি খুলে ফেলে সেখানে আফটার-মার্কেট বা কাস্টমাইজড পাইপ লাগিয়ে এর ভিতরের শব্দ কমানোর ফিল্টার বা ব্যাফেল খুলে ফেলে। যার কারনে মোটর থেকে সরাসরি বিকট ও তীব্র শব্দ বেড় হয়। মোটরযান আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেলের আসল নকশা পরিবর্তন করে এ রকম অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা এবং শব্দ দূষন করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। কুষ্টিয়া রাজবাড়ী সড়কের মন্ডল তেল পাম্প ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পশ্চিম পাশে অবস্থিত আরাফাত মোটো গ্যাজেট নামের একটি গ্যারেজে এই অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ লাগানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যা ইতিপূর্বে তৎকালীন পুলিশ সুপারের নিকট কুষ্টিয়ার সাংবাদিকরা অভিযোগ করেও এটা বন্দ করতে পারেনি।
এদিকে মাইকের উচ্চ শব্দে কুষ্টিয়া পৌরবাসী এখন অতিষ্ঠ। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোমল মতি শিশু এবং বৃদ্ধরা।
হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিসহ অসুস্থ্য মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি। উচ্চ শব্দে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া হচ্ছে চরমভাবে বিঘ্নিত। শব্দ দূষনের ব্যাপারে আইন রয়েছে। কিন্তু এর কোন প্রয়োগ নেই।
শব্দ দূষন কুষ্টিয়া পৌরসভা এলাকাতে অসহনীয় হয়ে উঠলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। যে কারনে বিজ্ঞাপন প্রচারকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
তারা আইনের প্রতিবৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে নির্বিঘ্নে উচ্চ শব্দে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান কিংবা পণ্যের বিজ্ঞাপন। অবিলম্বে শব্দ দূষন বন্ধের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এল//দৈনিক দেশতথ্য //ঢাকা //
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post