গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় হঠাৎ উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।
সভা চলাকালে এক জামায়াত নেতাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীরা চড়াও হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল পরিস্থিতি শান্ত করে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাসসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত দলের নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা চলাকালে কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আলম হুসাইনকে লক্ষ্য করে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন সভাকক্ষে প্রবেশ করে তাকে ঘিরে ধরেন এবং লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এতে সভায় উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিএনপি-সমর্থিত কয়েকজন প্যানেল চেয়ারম্যানের অভিযোগ, আলম হুসাইন সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানদের কাছে ভিজিএফের চালের ২৫ শতাংশ দাবি করেন। তাদের দাবি, বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন ও পৌর ভিজিএফ কমিটির মাধ্যমে প্রকাশ্য সভায় তালিকা প্রণয়ন করে দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে চাল বিতরণ করার কথা। আলম চেয়ারম্যানের চালের ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে প্যানেল চেয়ারম্যান সমর্থক বিএনপি কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকে আজ আলম চেয়ারম্যান কে আইনশৃঙ্খলা সভায় মারধর করার চেষ্টা করা হয়।
ধানখোলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মন্টু বলেন, চালের ভাগ দাবি নিয়ে এলাকায় কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরেই সভায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন আগে ধানখোলা ইউনিয়নে ভিজিএফের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে জানান তিনি।
সাহারবাটি ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা বলেন, তিনি ৩৬৯৩টি কার্ড বরাদ্দ পেয়েছেন, এরমধ্যে এমপির নামে আলম চেয়ারম্যান ২৫ পার্সেন্ট ভাগ চেয়েছেন।
ষোলটাকা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন, বামন্দী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম ও একই ধরনের অভিযোগ করেন।
তাদের মতে, দুস্থদের জন্য বরাদ্দ চাল থেকে অংশ দাবি করা হলে তা নীতিমালার পরিপন্থী হবে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আলম হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভিজিএফের চাল বিতরণে বিধি অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত ও বিতরণ-পরবর্তী মাস্টাররোল জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কাউকে কোনো ধরনের ভাগ দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, তবে সভায় সৃষ্ট হামলার চেষ্টা ও হট্টগোল কাম্য ছিল না।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, ভিজিএফের চাল প্রকৃত দুস্থদের মাঝেই বিতরণ করতে হবে, কাউকে কোনো অংশ দিতে হবে না। তবে সভায় হামলার চেষ্টা বা বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে তিনি সমর্থন করেন না।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু বলেন, আজকের ঘটনাটি দু:খ জনক। এমন ঘটনা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে আওয়ামী আমলে এই সভাক্ষেই হামলার শিকার হয়েছেন। তবে আজকের ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টির জন্য তিনি ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এছাড়া গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ও পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাও এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম বলেন, হামলা বা হট্টোগলের ঘটনা অত্যান্ত ন্যাক্কার ও দু:খ জনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তারা উপজেলার কোন সভায় আসবেন না।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, সাময়িক উত্তেজনা হয়েছিলো। আইনশৃংক্ষলা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিত শান্ত হয়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে গাংনী উপজেলা শহরে জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post