স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ ও নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল চর্চায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত নিকেতনের নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
‘লালনে সৃজনে বাঙালি সংস্কৃতি’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০১০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, চারুকলা ও লোকজ সংস্কৃতির প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। শিশু-কিশোর ও তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত ঢোলবাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকশিল্পী প্রয়াত বিনয়বাঁশী জলদাসের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বোয়ালখালীসহ চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন।
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের অভিজ্ঞ শিল্পীদের তত্ত্বাবধানে দক্ষ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। চলতি শিক্ষাবর্ষে কণ্ঠসংগীত, উচ্চাঙ্গ ও লোকসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ঢোল, তবলা, বেহালা, বাঁশি, গিটার, কিবোর্ড ও অক্টোপ্যাডসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ। নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে বিশেষ রিহার্সেলের মাধ্যমে দলীয় পরিবেশনা ও মঞ্চ উপস্থাপনার দক্ষতা তৈরি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিবেচনা করে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি টেলিভিশন ও বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত নিকেতনের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার আরাকান সড়কের পেতন শাহ মাজার গেট সংলগ্ন নূর আইডিয়াল স্কুল ভবনের নিচে শাওন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত।
ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৯৩৩-০৭৯৭২১ ও ০১৮২০-০০৯৬৩৭ নম্বরে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল ও মানবিক বিকাশে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সুস্থ সাংস্কৃতিক শিক্ষা একজন দক্ষ শিল্পীর পাশাপাশি একজন মূল্যবোধসম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরিতে সহায়তা করে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চাতেও যুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ নান্দনিক ও মানবিক সমাজ গঠনে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।
আর//দৈনিক দেশতথ্য// ঢাকা।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post