এসএম জামাল, কুষ্টিয়া: কৃষকদের উৎপাদিত সুগন্ধি চালের বাজার সম্প্রসারণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিকে লাভজনক ব্যবসায় রূপান্তরের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের উপপরিচালক মোছা. শাহনাজ বেগম।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ চালের তুলনায় সুগন্ধি চালের বাজারমূল্য বেশি এবং এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিকল্পিত উৎপাদন, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও কার্যকর বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে সুগন্ধি চাল চাষের মাধ্যমে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারবেন। এ জন্য কৃষকদের উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার সিনিয়র কর্মকর্তা ইশরাত জাহান মুনের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ (পার্টনার-ডিএএম অঙ্গ)-এর সিনিয়র মনিটরিং অফিসার নিখিল চন্দ্র দে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রুপালি খাতুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার মাঠ ও বাজার পরিদর্শক জিয়া হায়দার।
প্রশিক্ষণে সুগন্ধি চালের বাজার চাহিদা, উৎপাদন পরিকল্পনা, পণ্যের গুণগত মান, মূল্য নির্ধারণ, সংরক্ষণ, বাজার বিশ্লেষণ, ভোক্তার চাহিদা এবং লাভজনকভাবে বাজারজাতকরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের কৃষিকে কেবল উৎপাদননির্ভর না রেখে বাণিজ্যিক ও উদ্যোক্তানির্ভর কৃষিতে রূপান্তর করতে হবে। কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের বাজার সম্পর্কে ধারণা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং বিপণন দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে ‘মার্কেট ডক্টর বিজনেস স্কুল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে হবে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃষকরা সুগন্ধি চালের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, বাজারমূল্য এবং ন্যায্য দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার সিনিয়র কর্মকর্তা ইশরাত জাহান মুন বলেন, মার্কেট ডক্টর বিজনেস স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের ব্যবসায়িক জ্ঞান ও বাজারমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য কীভাবে লাভজনকভাবে বাজারজাত করবেন, সে বিষয়ে বাস্তব ধারণা পাবেন। এর ফলে সুগন্ধি চালসহ সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথ সুগম হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষকদের প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থাপনার বাইরে এসে বাজারভিত্তিক কৃষি উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘মার্কেট ডক্টর বিজনেস স্কুল (ম্যাবস)’ গঠনের অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
এল//দৈনিক দেশতথ্য //ঢাকা //
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post